Tuesday, May 15, 2018

সিজিপিএ

- হ্যালো, কি? 4.83? ওর ভাত বন্ধ দুপুর থেকে। ওরে বলে দেও যেন যেদিকে মন চায় বের হয়ে যায়। আমি আসতেছি..... অপদার্থ যত্তসব।

বলেই মাথা চুলকাতে চুলকাতে বসের রুমে গেলেন লিখন সাহেব।
স্যার, আপনাকে সেদিন বলেছিলাম না যে আজ আমার আর্জেন্ট যেতে হতে পারে এক জায়গায়। আমার এখনি যেতে হবে।
আচ্ছা আচ্ছা। ঠিকাছে যান।

অফিস থেকে বের হয়ে একটা দোকানে ঢুকলেন । বাসা থেকে বের হওয়ার সময়ই ভেবে রেখেছিলেন এ দোকানে ঢুকবেন। তাড়াহুড়ো করে বেড়িয়ে বাড়ির বাস ধরলেন।

ক্রিং ক্রিং......

দরজায় খুলতেই উচ্চস্বরে চেঁচামেচি। কই গাধাটা কই? ওকে ভাত দিয়েছ দুপুরে? বের হয় নাই এখনো?

কি হইছে? কোনদিন তো ছেলের পড়াশোনার ব্যাপারে নাক গলাতে শুনি নি। আজ এত হট কেন! আস্তে আস্তে বলতে লাগলেন মিসেস লিখন।

কি হইছে মানে! তুমি জানো না কি করছে ও। এখানে নিয়ে আসো তোমার গুনধর ছেলেকে। ওর গালটা আমার হাতের কাছে এনে দাও। অফিস থেকে চলে আসছি কি এমনি এমনি!

ছেলেকে সামনে এনে দাঁড় করালেন। মাথা নিচু হয়ে হাঁটু কাপা অবস্থা তার। জিপিএ ফাইভ পায় নি বলে তার বাবা এমন করবে ভাবতেও পারে নি সে। পড়াশোনা তো কম করে নি, তার কি দোষ!

কি খবর নেতা আপনার? মাথা নিচু কেন? মাথা উঁচু করেন।

মাথা তুলতেই ব্যাগ থেকে বের করে দিলেন সদ্য কেনা গিফটগুলো।
মুহূর্তেই থ হয়ে গেলেন মা ও ছেলে। কিছুই বুঝতে পারলেন না কি হল।
ছেলেকে বুকে টেনে নিলেন লিখন সাহেব। বাচ্চা তুই মাথা উঁচু করে থাকবি। অনেক ভালো রেজাল্ট করেছিস। আর বাবাকে কেউ ভয় পায় বোকা! আমি তো তোর বন্ধুর মতই। আসো আমরা একসাথে খাবো বলে তোমাকে খেতে দিতে না করেছি। ঐ তুমি কেমন মা, ছেলেটাকে একটু আদর করো না পাশ করার পরও।

তুমি যে কি আমি আজও চিনতে পারলাম না গো। গলায় বিস্ময় মেখে বললেন মিসেস।

হে হে এই লিখনকে চেনা এত সহজ না।


 

Thursday, February 1, 2018

লাল টিপ লাল শাড়ি


রাজীব নন্দী:
"জয়িতা কোথায়? মিথিলা কোথায়? ওদের জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে। ওদের দেখতে ইচ্ছে করছে।"

       বইটা পড়া শেষে এভাবেই ইনবক্স করলাম লেখককে।

নাহ, রিভিউ লিখতে বসি নি। দু'চার কথা না বললেই নয়। তাই কিবোর্ডে হাত রাখা।

বইয়ের প্রথম পাতায় একটা প্যারা পড়েই চুল টানতে টানতে বলতে লাগলাম, আসলেই তো। কি সেই প্যারা যা কোট করে না দিলেই নয়!
                           “নিচু একটা জায়গায় পানি জমে আছে। হৃদয় সেই পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছে। সামান্য বাতাসে পানি নড়ছে, তার ছায়া ভেঙ্গে ভেঙ্গ যাচ্ছে। দুই-তিন-পাঁচ টুকরো হয়ে যাচ্ছে সে। এটাই একটা মানুষের প্রতিচ্ছবি। কোনো মানুষই তো একটা মানুষ নয়।”

উপন্যাসের নায়ক হৃদয়। যে জানে না তার জন্মপরিচয়। কেবল জানে মানুষের সেবার মাধ্যমে, মানুষে মানুষে ভালোবাসার চর্চায়, দেশপ্রেম বুকে ধারণ করে আমাদের পৃথিবীটা নিখাদ সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। তাই পরস্পরের ভালোবাসাটা পৃথিবীর জন্য বড্ড জরুরি। মানব প্রজাতি পানি ছাড়া হয়তো এক সপ্তাহ, খাবার ছাড়া দুই সপ্তাহ, ঘরবাড়ি ছাড়া হয়তো অনেক বছর বাঁচতে পারে কিন্তু নিঃসঙ্গতায় সে বাঁচতে পারে না। ধুঁকে ধুঁকে মরে কিংবা দিব্যি একটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স হয় ঘুরে বেড়ায়।

মিথিলা। মাদকাসক্ত চরিত্র। আধুনিকতার নামে আজকাল আনেকে মাদককে যে ফ্যাশন হিসেবে ব্যবহার করে সেটাই লেখক চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নইতো সব নয়। যদি দেশের যুব সমাজ এসব নেশায় জড়িয়ে নিজেদের শেষ করে ফেলে তাহলে অতসব উন্নয়ন কার জন্য? মূলত এই প্রশ্নই ছুড়ে দিয়েছেন পাঠকের দিকে।

এদেশে কোটি কোটি টাকা ব্যাংক থেকে হাওয়া হয়ে যাবে, দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে কিংবা ঘুষের জোয়ারে ভেসে যাবে ফাইল সেসব মানুষ মেনে নেবে। কিন্তু প্রেমিকার হাত ধরে আপনি নদীর পাড়ে হাঁটতে গেলেন, কাশবনে ঘুরতে গেলেন, কিংবা এক বিকেল দুজনে ছাদে বেড়াতে গেলেন তখনই কিছু কিট এসে আপনাদের হেনস্তা করার চেষ্টা করবে। জয়িতারা সেরকম কিছু কিটের লোলুপ দৃষ্টির থাবায় পড়ে হারিয়ে যায়।

মিতু ভাবী। যাকে আমার ভালো লেগে যায় তার ভালোবাসার তীব্রতার জন্য। ভালোবাসি বলার চেয়ে ভালোবাসতে পারাটা, ভালোবাসতে শেখাটা আগে দরকার। এরকম একটা ভাবী থাকা খুব সৌভাগ্যের।

পূর্ণিমা। ফুলশিশু যে রাস্তায় ফুল বিক্রি করে। তাকে খুশি করতে হৃদয়ের চেষ্টার শেষ নেই। পূর্ণিমার মায়ের মৃত্যুতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি এবং আমার মুখ থেকে বের হয়ে যায়, আহারে বেচারা। এটা না হলেও পারতো।

শেষে যে লাইনটা দিয়ে আমার লেখাটা শেষ করতে চাই তা হুবহু তুলে দিলাম।
                             “একজন চাষা যখন জমিতে ফসল ফলায় তখন সে মাটির সঙ্গে কথা কয়, বলদের সঙ্গে কথা কয়, লাঙ্গলের সঙ্গে কথা কয়, সাপজোঁকের সঙ্গে কথা কয়, নিজের কপালের সঙ্গে কথা কয় এমনকি সৃষ্টিকর্তার সঙ্গেও কথা কয়।" আর রাজনীতিবিদ নামের মুখোশধারী, তোমরা?

সর্বোপরি, এটা লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাস। প্রথম উপন্যাস আমাকে এতোটা টেনে ধরতে পারে নি এটা যতটা পেরেছে। বইমেলা শুরু হল। এ মাস কাটুক বই পড়ে, বইয়ের পাতার ঘ্রাণ নিয়ে আর নতুন নতুন কালেকশনে। হ্যাপি রিডিং।

লাল টিপ লাল শাড়ি
লেখকঃ মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী
প্রকাশনীঃ ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ( প্যাভিলিয়ন-২)
দামঃ ১৫০ টাকা

Sunday, November 5, 2017

কঙ্কাতন্ত্রের বিনিময়ে ভালোবাসা

শ্রাবণী। সদ্য কলেজের চৌকাঠ পার হইয়া মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষে ভর্তি হইয়া অষ্টাদশী বনে গমন করা বালিকা। নাহ, তাহাকে আর যাহাই হোক এখন বালিকা বলা চলে না। দীর্ঘ দশ বছর পাড়ি দিয়া কি করিয়া যে বালিকা হইতে রমণী হইয়া উঠিয়াছে আমি তাহা ভাবিয়া কূল পাই না। ওর মাতুলালয় আমাদের বাড়ির ঠিক উত্তর-পশ্চিম পার্শ্বে। দশ বছর পূর্বে সেই ছোট্টবেলায় চোখকে উপেক্ষা করিয়া গেলেও আজ তাহার উপর হইতে চোখ ফিরানো দুঃসহ কর্ম বটে।

আকাশ হইতে তারা খসিয়া পড়ে, বৃক্ষ হইতে ফল ছুটিয়া পড়ে আর তাই আমিও এই অষ্টাদশীর প্রেমে না পড়িয়া পারিলাম না। তাহা না হইলে যে প্রকৃতির সহিত বিরুদ্ধাচারণ হইবে। কি করিয়া তাহাকে ইমপ্রেস করিতে হইবে তাহা এতোকাল ইমেপ্রেম টেলিফিল্মের রোমান্টিক মুভি দেখিয়াও শিখিয়া লইতে ব্যর্থ হইয়াছি। আমি যে এই অষ্টাদশীকে বড্ড ভালোবাসিয়া ফেলিয়াছি। যাহাকে বলে লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট বলিলে হয়তো যথার্থ বলা হইবে। তাই গুগোল কিংবা ভূগোল যাহাই হোক তালাশ করিয়া উপায় আমাকে বাহির করিতেই হইবে।

ছোট বোনকে গুপ্তচর নিয়োগ করিয়া জানিয়া লইলাম যে, এই অষ্টাদশী আর যাহাই হোক অন্যদের হইতে ঢেড় আলাদা। তাহার সহিত আমার প্রেম কাহিনি খুব সহজেই ‘অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো’ এই লাইনে পৌঁছাইয়া যাইবে তাহাও ভাবি না। বহু কাঠখড় পুড়িয়া জলবায়ু চুক্তির অবমাননা করিয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ খানিকটা বাড়িয়া যাইবে তাহা প্রথমেই অনুমান করিয়া লইয়াছি। ভিতরে ভিতরে ইহাও আত্মস্থ করিয়া লইয়াছি যে, মৌচাকের সেই বন্ধুর রাস্তা পদব্রজে হাঁটিয়া তাহার মেডিকেল কলেজের সামনে যদি রোমিও সাজিতে হয় তাও সাজিবো। ভালোবাসার জন্য যুগে যুগে কত মহান প্রেমিক কত কি করিয়াছেন আমি তাহাদের আইডল মানিয়া লইলাম। তবে এখন কিছু একটা দিয়া তো শুরু করিতে হইবে। এতো ভালোবাসা বুকে লইয়া ঘুরিবো অথচ সে জানিতেও পারিবে না তাহা কি করিয়া হয়।

তাই চিঠি লিখিলাম,
“হে ডাক্তারনী,
এনাটমি পড়িতে পড়িতে জীবনটাকে যখন শক্ত হাড্ডির মতই নীরস মনে হইবে তখন ভাবিও কেহ একজন তোমার পাশে খেঁজুর গাছ হইয়া দাঁড়াইয়া রহিয়াছে।
ফিজিওলজি পড়িতে পড়িতে যখন তোমার নিজের ফিজিওলজি ব্যর্থ হইয়া পড়িতে চাইবে তখন ভাবিও কেহ একজন তোমার পাশে আখ গাছ হইয়া দাঁড়াাইয়া রহিয়াছে ।
আর ওপেন হার্ট সার্জারি প্রাকটিস করিবার জন্য যদি কোন রোগী খুঁজিয়া না পাও তবে ভাবিও কেহ একজন তাহার হার্ট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হইয়া রহিয়াছে।”

চিঠিখানা লিখিয়া গুপ্তচর মারফত শ্রাবণীর তালুদাবা করিয়া দিলাম। পরদিন ফিরতি চিঠি আমার হস্তে আসিয়া পড়িল যাহাতে লিখা রহিয়াছে-

“হে খেঁজুর গাছ, আখ গাছ ও হার্টের রোগী,
আমি আপনার লেখার মুগ্ধ। শুধু চিঠি পড়িয়াই এতোটা বিমোহিত হইলাম, আপনি উপন্যাস লিখিলে তাহা পড়িয়া আমার কি করুণ অবস্থা হইতো তাহা কেবল ঈশ্বরই জানে। শুনে রাখেন, আমি অত সহজে পটিয়া যাইবার পাত্রী নহে। তবে একখানা শর্ত দিলাম আপনাকে, আকাশে যখনই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি দেখা যাইবে তখন যদি একখানা ডিঙ্গি নৌকা লইয়া মালিবাগ-মৌচাকের রাস্তায় হাজির হইয়া আমাকে পাড় করিয়া  কলেজে পৌঁছাইয়া দিতে পারেন তবেই আমি বিষয়খানা ভাবিয়া দেখিবো।”

আমি অতঃপর বলিলাম, ইহা আর এমন কি? তুমি চাইলে উত্তর কোরিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রকে মিলাইয়া দিতে পারি, বন্ধুর সম্পর্ক তৈরি করিয়া দিতে পারি ভারত আর পাকিস্তানের মইধ্যেও। তুমি চাইলে অং সাং সুচি’র বুকে ঢালিয়া দিতে পারি এক ড্রাম মানবতা, তুমি চাইলে চালের বাজারে শায়েস্তা খাঁ’র আইন চালু করিয়া দিতে পারি। আর তুমি কিনা সামান্য এইটা চাইলা!

ফিরতি বার্তায় অষ্টাদশী বলিল, বাহ! আমি পটিয়া গিয়াছি হে। তবে আমি অতোকিছু চাহিবার পাত্রী নই। আমি চাই আপনি ইয়ে মানে তুমি সব সময় আমার চক্ষুর সম্মুখ জুড়িয়া থাকো। পড়িতে বসিলেও যাহাতে তোমায় দেখিতে পাই, ইচ্ছে হইলেই ছুঁইয়া দেখিতে পারি। আমার সহিত তুমি আমার ক্লাসে যাইবা আবার ফিরিয়া আসিবা। আমার পড়ার টেবিল থেকে বেডরুম সবখানেই তোমার প্রবেশাধিকার দেওয়া হইবে।

এহেন চিঠি দেখিয়া আমি বারবার চক্ষু ডলিতে লাগিলাম; আমি কি ঠিকঠাক পড়িতেছি কিনা। তাই দেরি না করিয়াই জানিতে চাহিলাম, “সেটা এক্ষুনি কি করিয়া সম্ভব হে? তবুও আমার তর সহে না। উপায় বলিয়া দাও কি করিয়া তাহা সম্ভব হইবে?”

অষ্টাদশী বলিল, সদ্য এনাটমী পড়িতে শুরু করিয়াছি। বাজারে খুঁজিয়াও ভালো মানের কঙ্কাল কিনিতে পারি নাই। তোমার বডির কংকালতন্ত্রটা আমাকে দিয়া দিলেই একটা কঙ্কালের অভাব পূরণ হইবে বলিয়া অনুমান করি। এতো ভালোবাসো যেহেতু পারিবে কি তোমার কঙ্কালখানা দিতে? যদি পারো তবে চিঠি দিয়া জানাইবে কিন্ত। তবেই সবসময় তুমি আমার সহিত থাকিতে পারিবে, ব্যস?

অতঃপর আমি চিঠি লিখিবার জন্য কলম কিংবা ডায়েরি কিছুই খুঁজিয়া পাই নাই। আর আমাকেও সেই অষ্টাদশীর চৌ-হদ্দিতে কখনো খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই।

- রাজীব নন্দী
০৬-১০-২০১৭

Tuesday, October 31, 2017

শুভ জন্মদিন হার্টলেস কার্ডিওলজিস্ট

বিশুদ্ধ ভালোবাসা বলে কোন টার্ম নেই। ভালোবাসা সবসময়ই বিশুদ্ধ এবং সদ্যোজাত শিশুর মত সুন্দর, সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের মতই পবিত্র। যেখানে শুদ্ধতার বালাই নেই, অবিশ্বাসের টানাপোড়েন নেই, শ্রদ্ধার ঝালাই নেই সেটা আর যাহোক ভালোবাসা হতে পারে না। আর কাউকে ভালোবাসাটা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে শুদ্ধতম অনুভূতি। পৃথিবীর সাতশ কোটি লোকের মাঝে একজন মাত্র মানুষকে কেউ ভালোবাসে এটা ভাবলেইতো শিহরিত হওয়ার কথা মানুষের, মনে মনে মানব জনমের স্বার্থকতা জয়ধ্বনি করলেও কিছুতেই কম হবে না।
যে কথা বলতেছিলাম, আমিও একবার সেই শুদ্ধতম অনুভূতি পেয়েছি একজনকে ভালোবেসে এবং তাকে ভেবে ভেবে এখনো পাচ্ছি। যার কাছে আমি কখনো মিথ্যে বলার সাহস করতে পারি নি, যার সাথে প্রতারণা করবো এমনটা ভুলেও আমার ধারনায় আসে না, যাকে না পেয়েও পাওয়ার আত্মবিশ্বাস রাখি এবং পদে পদে হারানোর ভয় আমাকে দুমড়ে মুচড়ে দেয় প্রতিনিয়ত।

নাহ, সে হয়তো কখনো আমায় ভালোবাসে নি, ভালোবাসার মত কোন কনটেন্ট আমার মধ্যে উপস্থিত আছে কিনা আমি তাও জানি না। থাকলেও সেটা তার পছন্দ কিনা তাও জানি না। সে কখনো জানতে দেয় নি। তবুও, চাঁদকে তো মানুষ একতরফা ভালোবাসে, ভালোবাসে বিশাল সমুদ্রকেও। নিজের স্বপ্নকেও তো ভালোবেসে বুকে লালন করে এক জীবন কাটিয়ে দেয় কত মানুষ, কেউ কখনো সেসবের প্রতিউত্তরে উল্টো ভালোবাসা দাবী করে বসে না। প্রকৃত ভালোবাসায় চাওয়ার কিছু থাকে না, দিতে পারার মাঝেই আনন্দ পাওয়া যায়। আমিও সেই মানুষটাকে এক তরফা ভালোবাসি। শুনেছি প্রেমিকরা স্বৈরাচারী হয়, জোর করে হলেও নিজের প্রেমকে কাছে পেতে চায়। আমি স্বৈরাচারী নই, আমি শান্ত শীতল নদীর মত প্রবাহিত হয়ে যাই সমুদ্রের মিলনের আশে, আমি বাবুই পাখির মত সাধনা করে একটু একটু করে ভালোবাসার খড়কুটো জমিয়ে শান্তির নীর বানাতে চাই। ভালোবাসার গাঁথুনি দিয়ে বানানো একটা লাভমহল থাকবে আমার। যেখানে ভালোবাসা কোন নিয়মের বেড়াজালে আটকে থাকবে না, কোন কৈফিয়ত থাকবে না, স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াবে।

বেশিরভাগ বাঙ্গালির দাম্পত্য সম্পর্কই শাসক আর শোষনের সম্পর্ক, রাজা আর ভৃত্যের সম্পর্ক। যে সম্পর্ক শাসনের সে তো দাসের, যে সম্পর্ক প্রতারণা আর মিথ্যাচারের সে তো রাজনীতি আর যে সম্পর্ক চুক্তির সে তো ব্যবসা। আমি এমন কোন সম্পর্ক কখনোই চাইব না আমার ভালোবাসার সাথে।

আমার একটা নীল ডায়েরি যার নামে লেখা হচ্ছে, আমার কম্পিউটারের একটা ফোল্ডারে শোভা পাচ্ছে যার সারি সারি ছবি, আমার ফোনের ওয়ালপেপারটাও দখল করে রাখছে যে নারী, যাকে নিয়ে পত্রিকায় লিখি নানা গল্প, তাঁর সাথে আমার কোন যোগাযোগই হয় না। খুব অবাক করা বিষয় না?

আমি জীবনে বেশিরভাগ সময়ই আদরে আদরেই বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকে তথাকথিত ভালো ছাত্রের তকমা গায়ে থাকাতে পাড়ার ভাঁড় থেকে শুরু করে স্কুলের স্যাররাও আমায় একটু সমীহ করত। হঠাৎ আমি অনুধাবন করলাম আমার জীবনে একটা জিনিসের বড় অভাব। সেটা হল উপেক্ষা, ইংরেজিতে যাকে ইগনোরেন্স বলে। কারো কাছ থেকে উপেক্ষা পেয়ে পেয়ে বুঝলাম জীবনে উপেক্ষা সইবার ক্ষমতা থাকাও দরকার এবং সেটা ভালোই অর্জন করে নিয়েছি। উপেক্ষা আর অপেক্ষা প্রায়ই সমোচ্চারিত শব্দ। তাই উপেক্ষাকে অপেক্ষা ভেবেই স্বস্তি পাই……

আমি প্রায়ই সেই বিউটি এণ্ড ব্রেইনের সাথে ব্রেইন গেমস খেলতাম। যেখানে তার অবচেতন মনের সাথে কথা বলতাম। অবচেতন মন কখনো মিথ্যে বলে না এবং তার অবচেতন মনের ভাষা আমাকে শান্তি দিত, সামনে পা বাড়ানোর রাস্তা দেখাতো, বুকের মাঝে স্বপ্নগুলোকে রঙ্গিন করে দিত অবশেষে আমার দিনটাও ভালো করে দিত। আমি জানি না হঠাৎ করে কি হল, কেন হল…. আমার হাতে সব ক্ষমতা নাই। ভিখিরীর সামনে পড়ে থাকা থালায় গাড়ির চাকা তুলে দিলে তার কিছু করার ক্ষমতা থাকে না কেবল চোখের জল ফেলে কাঁদা ছাড়া। ক্ষমতাহীনের প্রতিবাদইতো চোখের জল।

তুমি আমি মিলে আমাদের ছেলের নাম রেখেছিলাম “রেইডেন”। তোমাকে রেইডেনের মা বলে ডাকতাম। কত ইচ্ছে, কত স্বপ্ন, কত ভবিষ্যৎ কল্পনা মিশে থাকত ঐ একটা ডাকে সেটা আমার ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানে না। ভুল বললাম, তুমিও জানো হানি তাই না?

ইচ্ছে ছিল, তার জন্মদিনে অনেককিছু করবো। তাকে ঢাকা এসে সারপ্রাইজ দিব। কোন রেষ্টুরেন্টে বসে কেক কাটবো। সেই পথ আটকে দিল মানুষটা। অধিকারহীন ভালোবাসা আর ভালোবাসাহীন অধিকার দুটোই কষ্টের। খুব কাছের ভাবা মানুষকে হঠাৎ করে অচেনা বা অপরিচিত ভাবার চেয়ে বেদনাদায়ক আর কিছু নেই। এ যেন নিজের হৃদপিণ্ডকে টেনে বাইরে দিয়ে আসা। কত ভালোবাসা জমে থাকে ওটায় কিন্তু টেনে বাইরে নিয়ে আসলেই অপরিচিত মনে হয়।

ভালোবাসা মানে ভালোবাসার মানুষটা ভালো থাকা, ভালোবাসা মানে তাকে তার মত বাঁচতে দেওয়া, ভালোবাসা মানে তার পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়া। ভালোবাসা মানে ভালোবাসার জন্য সবকিছু সেক্রিফাইস করা। আর ভালোবাসা মানে ভালোবাসার মানুষটার সাথে এক জীবন কাটিয়ে দেওয়ার গোপন অভিলাষ নিয়ে বেঁচে থাকা। সেই অভিলাষ বুকে জমিয়ে রাখলাম নাহয়……

জীবন ক্ষণস্থায়ী। এক জীবনে তোমার সাথে দেখা হওয়াটা আমার সৌভাগ্য। আমি হয়ত পৃথিবীতে আরো একশো বছর আগে কিংবা একশ বছর পরেও আসতে পারতাম। কিন্তু আমার অন্যকোন জীবন হবে কিনা জানি না, হলেও সে জীবনে তুমি থাকবে কিনা তাও জানি না। এক জীবনে একটা চাওয়াও যদি পাওয়া না হয় সেটা অন্য কোন জীবন আমাকে ফিরিয়ে দেবে না। তাই এক জীবনে তোমায় পাওয়ার অপেক্ষা নিয়েই বেঁচে থাকলাম ভালোবাসার দাবী নিয়ে।

শুভ জন্মদিন শ্রাবণ, হার্টলেস কার্ডিওলজিস্ট, বিলাই, রেইডেনের মা, বিউটি এণ্ড ব্রেইন, হানিবানি, শয়তান। <3

ভালো থেকো
ভালো রেখো!

-অপেক্ষা

Thursday, October 26, 2017

শ্রাবণপত্র 9 (অ্যাংরি বার্ড)

প্রিয় অ্যাংরি বার্ড,
কেমন আছো? জানো এখনো এমন কোন দিন বাদ যায় না আমি তোমার ইনবক্সে না ঘুরি। আমার ফেসবুকিংয়ের সূচনা ও শেষ হয় তোমার ইনবক্সে ঢুঁ মারার মাধ্যমে। এক মাসের বেশি হয়ে গেছে তুমি এখনো আমার শেষ মেসেজটা সিন করো নাই। তবুও বেহায়ার মতো মাঝে মাঝে তোমার ফোনে টেক্সট না পাঠিয়ে পারি না। এতো দেমাগ, এতো অহংকার কেন তোমার বল তো শ্রাবণ? এক মাসে একটাবার আমার মেসেজটা পড়ার মতো সময় এবং ইচ্ছে কোনটাই হয় নি তোমার। এতোটা অবজ্ঞা পাওয়ার যোগ্য আমি তোমার কাছে?

জোর করে তো আর ভালোবাসা হয় না। আর তোমাকে জোর করার ইচ্ছে এবং অধিকার কোনটাই আমার নাই। গতকাল রাতে কি স্বপ্নে দেখছি জানো? দেখলাম, তুমি আমায় ইনবক্স করে বলতেছো, লাভ ইউ বেবি সাথে একটা লাভ ইমো। আমার বিশ্বাস হচ্ছিল না মেসেজটা দেখে। আমি ভাবলাম ভুল করে করছো হয়তো। আমি জিজ্ঞেস করলাম মেসেজ কি ভুল করে আসছে? তুমি বললে উহু ঠিক জায়গায়ই গেছে। বিশ্বাস করো আমার জীবনে এতোটা আনন্দের মুহূর্ত আগে কখনোই আসে নি। তোমায় যেদিন আমার করে পাবো সে ক্ষণ, সে দিন, সে বছরটাই হবে আমার সবচেয়ে আরাধ্যের সময়। তোমায় পাওয়ার আনন্দের চেয়ে পৃথিবীর কোন কিছুই আমার কাছে বেশি হতে পারে না, জানো তো শ্রাবণ?

আমার জায়গায় থাকলে তুমি কি করতে জানি না, আমি রোজ যতটা সময় তোমায় ফিল করি ততটা সময়ই আমার কাছে কোয়ালিটি টাইম মনে হয়। শ্রাবণী নামটা শুনলেই আমার হার্টবিট বন্ধ হয়ে যায় কিছু সময়ের জন্য। হঠাৎ একটা সুখের হাওয়া বয়ে যায় পরক্ষণেই তোমায় না পাওয়ার কষ্ট চেপে বসে বুকে। কি ভয়াবহ ব্যাপার তাই না বলো, এই এক জীবন ছাড়া অন্য কোন জীবনে আমি ভালোবাসতে পারবো না। এ জীবনে তুমি আমার না হলে আমার পুরো মানব জীবনটাই তুমিহীনতায় কেটে যাবে। ভাবলেই বুকের উপর পাথর চেপে বসে।

তোমার সাথে বড্ড পাগলামো করতে ইচ্ছে করে। পুরো জীবনটাই মিশে যেতে চায় তোমার সাথে। তোমার মুখের প্রতিটা কোষ আমার মুখস্থ। জুম করে করে কতো বার দেখি তোমার তার ইয়ত্তা নাই। তোমার গালের তিলটাকে বড্ড ভালোবাসি, ভালোবাসি তোমার কপালের অস্বচ্ছ একটা দাগকেও।

তোমার জন্য যতটা সহ্য করতে পারবো আমি আর কারো জন্যই এতোটা পারবো না শ্রাবণ। রসায়নে প্রতিস্থাপন বিক্রিয়ায় অতোটা পটু হয়েও আমি তোমায় আর কাউকে দিয়েই প্রতিস্থাপন করার কথা ঘুণাক্ষরেও চিন্তা করতে পারি না মাই ডিয়ার হার্টলেস কার্ডিওলজিস্ট!

জানো, আমার সব ফ্রেন্ডরা তোমার এই নামটা খুব পছন্দ করছে। আমাদের বিয়ের পর সবাইকে বাসায় দাওয়াত দিয়ে ভরপুর খাওন দিয়ে বলে দিবো, আমার সোনাটা হার্টলেস নয়, আমার বাবুটারও একটা হার্ট আছে, ও ভালোবাসতে জানে। ঈশ্বরকেও ধন্যবাদ দেবো আমার জন্য তোমাকে গিফট হিসেবে পাঠিয়েছে বলে।

আজ রাখলাম। কেমন? 

- রেবা

Wednesday, October 11, 2017

শ্রাবণপত্র -8 (স্বপ্ন)

প্রিয় শ্রাবণ,
নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে স্বপ্ন ভঙ্গের দায়ে। এতোটা খারাপ কখনো লাগে নি। বিছানায় শুয়ে শুয়েই তাই লিখতে বসলাম। ঘুম ভাঙ্গতেই মনে হলো কেনইবা ভাঙ্গল ঘুমটা, কেন এটা চললো না অনন্তকাল ধরে। কিছু স্বপ্ন অনন্তকাল যাবত বয়ে যাওয়া উচিত। যে স্বপ্ন বাস্তবতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখায় অন্তত সেগুলো।

কাল রাতে তৃতীয়বারের মতো তোমার স্বপ্ন দেখি শ্রাবণ। দেখি তুমি ফ্যামিলিসহ ঘুরতে গেছো গাড়ি নিয়ে, আমি পাশেই অন্য গাড়িতে। হঠাৎ তুমি গাড়ি থেকে নেমে পড়লে রাস্তার পাশের সাড়ি সাড়ি ফুল গাছ দেখার জন্য, চুম্বকের মতো বাধ্য হয়ে আমিও নামলাম। তোমার হাত ধরে ফুল দেখালাম। এই প্রথম তুমি আমার সাথে কথা বলার আগ্রহ দেখালে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে তোমায় ছুঁয়ে গেল আমার হাত। এতোটা সুখের অনুভূতি আমার আগে কখনোই হয় নি। অনুভূতিগুলোকে যদি ফ্রেম বন্দি করে রাখা যেত তবে আমি ঐ ফিলিংসটুকু আজীবনের জন্য বেঁধে রাখতাম। তোমায় ছুঁয়ে দিলে আমার পৃথিবীটাও স্বর্গ হয়ে যাবে সেটা সত্যি সত্যি তোমার ছোঁয়া না পেলে বুঝতাম না। তোমার পাশের দোকান থেকে সেই পছন্দের অনেকগুলো ফুল কিনে দিলাম। তুমি হঠাৎ আমার কানে কানে কিছু বলতে এসে আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার গালে পরম আরাধ্য তোমার অধর ছুঁইয়ে দিলে। এতোটা সুখ আমার সইতেছিলো না। তুমি সত্যি সত্যি এবার আমার হয়েছো আমার বিশ্বাস হচ্ছিলো না। ভালোবাসি বলে ফিরে আসবে এটা জানতাম। বিশ্বাস করো আমার জীবনে এই স্বপ্নই এখন পর্যন্ত আমার বেস্ট ছিলো যে স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতেই চোখের কোণে অনায়াসেই জল চলে আসছিলো। কি পবিত্রতা, কি মোহনীয় তোমার ছোঁয়া। ঘুম ভাঙ্গতেই বুঝলাম স্বপ্নও আমার সাথে প্রতারণা করে। সাথে সাথে ফেসবুকে এসে তোমার ইনবক্সে ঢুকি, তুমি এই সকাল সাতটা বাজেও অনলাইনে। তোমায় স্বপ্নটা লিখতে হাত নিসপিস করছিলো কিন্তু তোমায় না লেখার প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। আর লিখেও কি হবে তুমি তো আমার লেখা পড়োই না। একটি স্বপ্ন আমি চোখে লেপ্টে রাখতে চাই আজীবন, এটাকে হারাতে দিতে ইচ্ছে করছে না।

দু দিন আগে আমার রুমমেট বেদান্ত স্বপ্নে দেখলো যে তোমার আর আমার প্রেম হয়ে গেছে। আমরা একসাথে ভোলা থেকে বরিশাল আসছি। বেদান্তকে ডেকে নিছি রেস্টুরেন্টে একসাথে খেতে। জানো বেদান্ত বলছে যদি তোমার আর আমার বিয়ে হয় তাহলে সে আমাদের হানিমুনের দুইটা প্লেন টিকেট দিবে।

বাস্তবে তো আমায় কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছো এবার স্বপ্নেও শুরু করলে। কেবল ভালোবাসার দায়ে আর কতকাল অপরাধী বানিয়ে রাখবে শ্রাবণ? ভালোইতো বেসেছি, এটাও অন্যায়?

12-10-2017
7:24. a.m.

শ্রাবণপত্র 7

প্রিয় শ্রাবণ,
অনেক দিন পর একরকম বাধ্য হয়েই লিখতে বসলাম। ভাবছি তোমায় ছেড়ে সবকিছু ভুলে দূরে দূরেই থাকবো কিন্তু তা আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। আমার কথাগুলো কাউকে বলতে পারছি না, তোমার নিয়ে আমার মনের পাড়ায় এতো ঝড় আর তুমি সেসবের কিছুই টের পাচ্ছো না।

তোমার এপ্রোন পরা ছবিগুলো দেখে মাথায় তোমার নিষ্পাপ চেহারাটাই ঘুরপাক খাচ্ছে দুদিন যাবত। কি পবিত্রতা তোমার চেহারায়, কি স্নিগ্ধতা, কি ভালোবাসা সেটা আমার চেয়ে কেউ বেশী অনুভব করতে পারবে না। তোমায় পাওয়ার আকাঙ্খা আমাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে অবিরাম। তোমায় ছাড়া আমি এখনো কিছু ভাবতে পারছি না। আমি বিশ্বাস করি, তুমি একদিন ঠিক বুঝতে পারবে আমার ভালোবাসার গভীর। তোমার আমাকে ভালোবাসতে হবে না শ্রাবণ, আমি চাই তুমি শুধু এটুকু ফিল করো যে এই পৃথিবীতে কেউ একজন বোকার মতো ভালোবাসে তোমাকে।

সেদিন যে কার্ডিয়াক সার্জন মেমের পোস্টে তোমাকে মেনশন দিলাম মেমের ঐ টাইপ রিপ্লাই পেয়ে কি যে ভালো লাগছে তুমি সেটা কখনোই বুঝতে পারবে না। আমার কেবল মনে হচ্ছে তুমি তবুও যদি বুঝতে পারতে আমি কতটা নত হয়েছি। কবিগুরু তো বলেই দিয়েছেন, ভালোবাসা যেখানে গভীর, নত হওয়া সেখানে গৌরবের। ভালোবাসার জন্য আমি বারবার নত হতে রাজী আছি।

একটাইতো জীবন। প্লিজ এক জীবনে আমার হয়ে যাও….
বিশ্বাস করো, অনেক ভালোবাসি, অনেক!

-রেবা