Tuesday, December 20, 2016

চাপাবাজি যদি এই লেভেলের হয়

প্রথম ব্যক্তি : আরে আমার দাদা ছিল হাজী মুহাম্মদ মুহসীনের পরই দ্বিতীয় উদার ব্যক্তি। তার একটা সোনার ডিমপাড়া হাঁস ছিল। একবার বাসায় অতিথি আসছিল আর সেই সোনার ডিম পাড়া হাঁসটা কেটে অতিথিদের খাওয়াইছিল। চিন্তা করেন কত বড় কলিজাওয়ালা লোক ছিল।

দ্বিতীয় ব্যক্তি : আমার দাদার ছিল তিন তলাবিশিষ্ট পুকুর। সেখানে ইলিশের চাষ হতো আর পুকুরের ছাদে বইসা বড়শি দিয়া মাছ ধরত লোকজন। সে কী অসাধারণ দৃশ্য ছিল বলার মতো না।

তৃতীয় ব্যক্তি : আমার নানার ছিল বিশাল ধানের গোলা। যেটা নাকি কখনোই ফুরাত না। একবার এক চোর চুরি করতে আসছে আর নানা চোরকে কষাইয়া একটা থাপ্পড় মারছে। কারণ চোর ছোট বস্তা নিয়ে আসছে কেন!

চতুর্থ ব্যক্তি : ধুর! এসব কিছু না। আমার নানার অনেক স্ত্রী ছিল। এলাকার কাউকে আলাদা করে বিয়ে করতে হতো না। নানা বিয়ে করে করে বউদের দিয়ে দিত অন্য কাউকে। কি বিগ হার্টেট ছিল ভাবা যায়!

প্যাঁচআল লিংক

Sunday, December 18, 2016

নিজের মাথায় অন্যের ভাবনা

দুঃখে ভরা পৃথিবীতে সুখের দিন কমই আসে যেগুলোকে ফ্রেমে বেঁধে রাখতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে বুকের বাম পাশটায় সেঁটে রাখি আজীবন। কিন্তু অনুভূতিকে তো হাতে ধরা যায় না, না যায় ফ্রেম বন্দী করা। তাকে শেয়ার করা যায়, ভিতর থেকে ফিল করা যায়। অনিশ্চিত যখন নিশ্চিত হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় তখন কথা বলার ভাষা হারিয়ে যায়। আনন্দে কোন ভাষা নেই, তাই আমিও জানি না আমার খুশির খবরটা কীভাবে সবার সাথে ভাগ করব। 

 HSC পাশ করার পর তো ধরেই নিয়েছিলাম পড়াশোনার লেটা বুঝি এখানেই চুকে যাবে। কারণ পরীক্ষার পরই মালেশিয়া চলে যাই। মনে মনে ভাবলেও কখনো বিশ্বাস হয় নি এই আমিই আবার কলম খাতা হাতে তুলে নেব। মালেশিয়া থেকে ফিরে এসে তাই ছোটখাটো চাকরি নেই এবং পড়াশোনা করার ইচ্ছেটা প্রবলভাবে মাথাচারা দিয়ে ওঠে। নিজের চুল ছিঁড়তে ছিঁড়তে ভাবলাম, জীবন তো সাপলুডু খেলা নয় যে এবার না হোক পরেরবার ছক্কা উঠবে, জীবন তো একটাই, যা করার এ জীবনেই করতে হবে আমাকে। 

তাই চাকরির পাশাপাশি কষ্ট করে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করি আবার। কখনো মনে হয়েছে হাল ছেড়ে দেই পরক্ষণেই মনে হয়েছে, তবে হাল ধরার জন্য তো আরেকটা জীবন নেই আমার! সেই হালেই জমি চাষ করে আজ সবুজ ফসল আমার জীবন মাঠে। আজ সেই আনন্দের দিন যেদিনকে ভেবে ভেবে কতদিন পার করেছি। আনন্দের ভাষা নেই বলে আমি বুঝাতে পারতেছিনা আমার উচ্ছ্বাস আর খুশির মাত্রাটা। জীবন সত্যিই সুন্দর যদি কষ্ট করে কিছু পাওয়া যায়। ধন্যবাদ সবাইকে, স্যারদের স্পেশালি। বেঁচে থাকার আনন্দ বেড়ে গেল একধাপ!

তানজীর রবিন ভাইয়ের অনুরোধে তার বন্ধুর জন্য লিখে দেওয়া ফেসবুক পোস্ট।

তেলবাজ ফেসবুকার

এক.
ফেসবুকে আসলে মানুষ লুলা আর হ্যাংলা হয়ে যায় নাকি বুঝি না। সেদিন একজনের একটা লেখা পড়ে আমি কোন মোরাল খুঁজে.পেলাম না। আমি আহামরি পন্ডিতও নই যে সব বুঝবো তাই কয়েকজনকে সেটা কপি করে ইনবক্সে দিলাম আর আমাকে মোরাল অফ দ্য গল্প বুঝিয়ে দিতে বললাম। তারাও সেটাকে আজাইরা বলে প্রত্যাখ্যান করল। অথচ সেটার নিচেই কমেন্টের গড়াগড়ি, সেই হইছে, অস্থির হইছে, অনেক ভালো আরও কতকি। এত তেলবাজি কেমনে করে মাইনষে!

দুই.
এমনিতেই আপ্পি সমাজ জন্মসূত্রে ফেসবুক সিলেব্রেটি কপাল নিয়ে জন্মায়। তারপরও এইসব লুলা আর তেলবাজ পাবলিকদের জন্যই খাইছো, ঘুমাইছো টাইপ পোস্ট লিখেও রাতারাতি ফেবু সিলেব্রেটি বনে যায় কিছু আপ্পি সমাজ।
মাঝে মাঝে ভাবি, আমার আইডি নামটা যদি লেডিস নাম হত এতদিনে আমিও তথাকথিত ফেবু সিলেব্রেটি হই যাইতাম! লাইক পাইয়া অহংকারে গদগদ করতাম, কেউ নক করলে ভাব নিয়া রিপ্লাই দিতাম না। সেই হইতো না ফ্রান্স?


লিংকঃ এখানে

সাংবাদিক সাহেব আপনাকে বলছি

কুত্তার বাচ্চা, **কির বাচ্ছা, **র বাচ্চা টাইপ গালিগুলো আমাদের কাছে খুব পরিচিতি শব্দ। পাড়ার আপ টু বটম যে কোন পাবলিক জীবনে একবার হলেও এসব ব্যবহার করেছে এবং বহুবার শুনেছে। কারো কারো কাছে তো এসব এতই প্রিয় শব্দ যে প্রতিটা কথায় ব্যবহার করেন অহরহ।

না গালি অভিধানে যাচ্ছি না, বিষয়টা হল যে অপরাধ করছে তাকে কিন্তু এই টাইপ গালিতে কিছুই বলা হচ্ছে না সব তার বাবা মায়ের উপর দিয়ে যাচ্ছে। সন্তানের অপরাধে বাবা মাকে অপরাধী করা হচ্ছে। তবে বাবা মায়ের অপরাধে কি সন্তান অপরাধী হবে না? ধরুন একজন ধর্ষকের সন্তান সেও কি রাষ্ট্রের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবে? আমরা জানি, কেউ অপরাধী জন্ম দেয় না, পৃথিবীর সকল শিশুই নিষ্পাপ। এমনকি যাকে আমাদের সমাজ বেশ্যার ছেলে বলে আখ্যা দেয় কিংবা বিবাহ বহির্ভূত যে সন্তান জন্ম নেয় সেও ফুলের মতই নিষ্পাপ হয়েই জন্মে। 

কিন্তু সে বেশ্যার ছেলে বলে কখন লজ্জা পেতে কিংবা শুরু করবে কিংবা অসম্মানিত বোধ করবে? যখন বুঝতে পারবে যে সমাজ তার মাকে খারাপ ভাবছে। তেমনি ধর্ষকের সন্তানও তখনই লজ্জা পেতে শুরু করবে সমাজের কাছে যখন জানবে যে তার বাবা একজন রেপিস্ট ছিল। এবং রেপ করা ঘৃনিত অপরাধ। আর বাবা যদি রাষ্ট্রদোহী হয় তবে? সে সন্তানও কি রাষ্ট্রদোহী? সে সন্তানের সম্যক জ্ঞান হওয়ার পরও কিংবা তার বাবার রাষ্ট্রদোহীর কাহিনি জানার পরও সেটাকে জায়েজ করার জন্য প্রচারণা চালায় তবে সেটা রাষ্ট্রের জন্য অসম্মানজনক ঘটনা নিশ্চয়ই। 

আর সে যদি বাবার অপরাধের জন্য ক্ষমা চায় রাষ্ট্রের কাছে তবে? তবে নিশ্চয়ই তাকে রাষ্ট্রদোহী আখ্যা দেয়া যায় না কারণ সে আলাদা মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার, ভালোবাসার ঘৃনা করার স্বাধীনতা থাকতেই পারে। দেখলাম দেশের বিশিষ্ট এক সাংবাদিক বললেন, বাবার অপরাধে ছেলেকে অপরাধী ভাবা ঠিক না। সাথে একটু ধর্ম নামক মশলা যোগ করে সেটাতে পাবলিক এট্রাকশন বাড়ানোর পলিটিক্সও বাদ দেন নাই। বাবার অপরাধের জন্য ছেলে ক্ষমা চেয়েছে কখনো? নাকি উল্টো বাবার এজেন্ডাকে জায়েজ করার জন্য পায়তারা চালাচ্ছেন? হায় সেলুকাস আমাদের বিশাল বিশাল সাংঘাতিক এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজ। পেমেন্ট পায় তো ঠিকঠাক নাকি ভাই ভাই হিসেবে গায় মুখে খেটে দিচ্ছেন?

Friday, December 16, 2016

বিজয় দিবস ভাবনা

বিজয় দিবস উপলক্ষে এই গান বাজে কেন? স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেই গান বাজে কেন? পহেলা বৈশাখে হেন কেন তেন কেন, কথাগুলো খুব ন্যাকামো মনে হয় এখন।

একই দোহাই শুনি রোজার মাস আসলেও। কেউ খারাপ কথা বললে, ছিঃ তুই রোজার মাসে এইকথা কেমনে বলিস, রোজার মাসে এইটা কেন করিস সেইটা কেন করিস, সব দোহাই রোজার উপর দিয়া দেয়। ভাবখানা এমন যেন রোজার মাসে যেসব করা যাবে না সেসব অন্যমাসে বুক ফুলিয়ে করা যাবে।

স্বাধীনতা দিবস একটি, বিজয় দিবসও একটিই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে একদিনেই উতলে উঠা দেশপ্রেম রাত পোহালেই নিভে যাবে। যারা পাড়ার মোড়ে মোড়ে হিন্দি গান বাজায় তাতে এটাই প্রমাণিত হয় যে বাঙলা গানে তারা জোস পায় না, বাঙলা গান তাদের টানে না। তবে কেন টানে না? গ্যাপটা কোথায়?

সারাবছর হোম থিয়েটারে, প্লে লিস্টে, হেডফোনে হিন্দি বাজতে থাকলে একদিন বাংলা বাজানোর মানে শো অফ ছাড়া কিছু নয়। আমরা তো শো অফের উদযাপন চাই নি, জাস্ট কোর অফ হার্ট থেকে আসুক প্রেমটা, দেশের গান শুনে হৃদপিণ্ডের 'বান্ডেল অফ হিজ' কেঁপে উঠুক এমনটাই তো হওয়ার কথা।

'জাতীয় সংগীত শুনে দাঁড়ানোর কি আছে-' বলে যে লোক ঘাড় ত্যাড়ামি করে তার বিজয় দিবসে নাগিন নাগিসের পরিবর্তে 'ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকায় মাথা' বাজালেই কি দেশপ্রেমের গ্রাফরেখা উর্ধ্বমুখী হয়ে যায়?
প্রজন্মের ভেতর থেকে যদি বাংলাটা ঠিক না আসে তো নাগিন নাগিনইতো বাজাবে, ফিলটাই যদি না আসে সবকিছু তো মেকি মেকিই মনে হবে। মেকির চেয়ে বাস্তবতা নিশ্চয়ই গ্রহনযোগ্য। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল জাতি হিসেবে আমরা আজও এক হতে পারলাম না। কখনো ধর্মের খড়গ, কখনো রাজনীতি তরবারি আমাদের দু ভাগ করেই রাখে। সরকার নামক শোষিত গোষ্ঠী যেটার ফায়দা লুটে হরিবল হরিবল করে গান ধরে।

বাংলাদেশ হোক মানুষের দেশ। কোন কাঠমোল্লার পৈত্রিক সম্পত্তি না হোক, না হোক কোন উগ্রবাদী ধুতি পরা পুরোহিতের। ধর্ম অধার্মিকদের দায় নেয় না, মানুষ অমানুষদের দায় নিয়ে তাদের শাস্তি দেয়।
.....সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
ধন্যবাদ বাংলাদেশ।

Monday, December 12, 2016

একটি খারাপ দিন

শনিবার রাত আড়াইটার সময় সেন্ট মাটিন থেকে রুমে আসলাম। সকালে বহু কষ্টে ঘুম থেকে উঠে হাসপাতালে যেত হল। নিউ মাকেটে

শীতের গোসলকে আর নয় ভয়

শীতে আপনি কি গোসল করতে ভয় পাচ্ছেন? বহুবার গোসলখানার দরজায় গিয়েও উল্টো পথে হেঁটেছেন? একদিন গোসল করলেও তিন দিন গোসল না করে বাজারের পারফিউমের দাম চড়ায় তুলে ফেলেছেন? হে হে তাহলে আপনার জন্য এই তরিকা।
  • প্রথমে ঘুম থেকে উঠেই ঘরের ভিতর (চিপা জায়গা থাকলে একই জায়গায়) ম্যারাথন দৌড়ের প্রাকটিস করুন। প্রয়োজনে খাটকে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • কিছুক্ষণ পর আস্তে আস্তে গোসলখানার দিকে হেঁটে যান। দরজায় নক করার দরকার নেই। দরজা খোলাই থাকবে গুটি গুটি পায়ে ঢুকে দরজা লক করে দিন।
  • এবার আসল খেলা শুরু, পানির টেপ ছেড়ে দিন। আস্তে আস্তে পানিতে হাত ছোঁয়ান। দেখবেন পানি আপনাকে এমনভাবে ছিটকা মারবে যেন প্রথম ডেটিংয়েই ভুল করে প্রেমিকার হাত ধরে ফেলেছেন।
  • হাল ছাড়া যাবে না। মনে মনে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান গাইতে থাকুন আর নিজের সম্পূর্ণ শিল্পগুন দিয়ে নাচতে চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন এ গান শেষ হওয়ার আগেই দু হাত পা ভিজাতে হবে।
  •  ভাবুন আপনি বেয়ার গ্রেলস। ম্যান ভার্সেস কোল্ড ওয়াটারে কীভাবে টিকে থাকতে হয় এটা আপনার চেয়ে কেউ ভালো জানে না। এই মানসিক শক্তি আপনাকে অনেকটা কাজে দেবে এ অভিযানে।
  • তারপর মাথা পানির নিচে দিয়ে মনে মনে গাইতে থাকুন ‘ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ দোলা না..!’ আর মাথাকে হাফ সমকোণে অনবরত ঝুলাতে থাকুন।
  • এবার ভাবুন সিসি ক্যামেরায় আপানার এ দৃশ্য লাইভ দেখানো হচ্ছে কোন সুন্দরী আপ্পি সমাজ সমৃদ্ধ লেডিস হলের টিভি রুমে। কি বেইজ্জতি কারবার ঘটে যাবে ভয় পেলে ভাবুন তো!
  • এতোক্ষণে পানিরা আপনার ধৈর্য পরীক্ষায় খুশি হয়ে দেখবেন গরম পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। 
  • এবার সব ভাবনা বাদ দিয়ে বাস্তব জগতে আসুন। আর খেয়াল করুন আপনার অফিস টাইম অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে না তো?
  • জানি হয়েছে! সবশেষে খিচ্চা দৌড়ে বের হয়ে যান। হে হে কাপড় পরতে ভুলবেন না যেন! মনে রাখবেন, ‘গোসলের চেয়ে ইজ্জত বড়’। 
  প্রকাশিতঃ ১২-১২-২০১৬