Sunday, December 18, 2016

তেলবাজ ফেসবুকার

এক.
ফেসবুকে আসলে মানুষ লুলা আর হ্যাংলা হয়ে যায় নাকি বুঝি না। সেদিন একজনের একটা লেখা পড়ে আমি কোন মোরাল খুঁজে.পেলাম না। আমি আহামরি পন্ডিতও নই যে সব বুঝবো তাই কয়েকজনকে সেটা কপি করে ইনবক্সে দিলাম আর আমাকে মোরাল অফ দ্য গল্প বুঝিয়ে দিতে বললাম। তারাও সেটাকে আজাইরা বলে প্রত্যাখ্যান করল। অথচ সেটার নিচেই কমেন্টের গড়াগড়ি, সেই হইছে, অস্থির হইছে, অনেক ভালো আরও কতকি। এত তেলবাজি কেমনে করে মাইনষে!

দুই.
এমনিতেই আপ্পি সমাজ জন্মসূত্রে ফেসবুক সিলেব্রেটি কপাল নিয়ে জন্মায়। তারপরও এইসব লুলা আর তেলবাজ পাবলিকদের জন্যই খাইছো, ঘুমাইছো টাইপ পোস্ট লিখেও রাতারাতি ফেবু সিলেব্রেটি বনে যায় কিছু আপ্পি সমাজ।
মাঝে মাঝে ভাবি, আমার আইডি নামটা যদি লেডিস নাম হত এতদিনে আমিও তথাকথিত ফেবু সিলেব্রেটি হই যাইতাম! লাইক পাইয়া অহংকারে গদগদ করতাম, কেউ নক করলে ভাব নিয়া রিপ্লাই দিতাম না। সেই হইতো না ফ্রান্স?


লিংকঃ এখানে

সাংবাদিক সাহেব আপনাকে বলছি

কুত্তার বাচ্চা, **কির বাচ্ছা, **র বাচ্চা টাইপ গালিগুলো আমাদের কাছে খুব পরিচিতি শব্দ। পাড়ার আপ টু বটম যে কোন পাবলিক জীবনে একবার হলেও এসব ব্যবহার করেছে এবং বহুবার শুনেছে। কারো কারো কাছে তো এসব এতই প্রিয় শব্দ যে প্রতিটা কথায় ব্যবহার করেন অহরহ।

না গালি অভিধানে যাচ্ছি না, বিষয়টা হল যে অপরাধ করছে তাকে কিন্তু এই টাইপ গালিতে কিছুই বলা হচ্ছে না সব তার বাবা মায়ের উপর দিয়ে যাচ্ছে। সন্তানের অপরাধে বাবা মাকে অপরাধী করা হচ্ছে। তবে বাবা মায়ের অপরাধে কি সন্তান অপরাধী হবে না? ধরুন একজন ধর্ষকের সন্তান সেও কি রাষ্ট্রের কাছে অপরাধী হয়ে থাকবে? আমরা জানি, কেউ অপরাধী জন্ম দেয় না, পৃথিবীর সকল শিশুই নিষ্পাপ। এমনকি যাকে আমাদের সমাজ বেশ্যার ছেলে বলে আখ্যা দেয় কিংবা বিবাহ বহির্ভূত যে সন্তান জন্ম নেয় সেও ফুলের মতই নিষ্পাপ হয়েই জন্মে। 

কিন্তু সে বেশ্যার ছেলে বলে কখন লজ্জা পেতে কিংবা শুরু করবে কিংবা অসম্মানিত বোধ করবে? যখন বুঝতে পারবে যে সমাজ তার মাকে খারাপ ভাবছে। তেমনি ধর্ষকের সন্তানও তখনই লজ্জা পেতে শুরু করবে সমাজের কাছে যখন জানবে যে তার বাবা একজন রেপিস্ট ছিল। এবং রেপ করা ঘৃনিত অপরাধ। আর বাবা যদি রাষ্ট্রদোহী হয় তবে? সে সন্তানও কি রাষ্ট্রদোহী? সে সন্তানের সম্যক জ্ঞান হওয়ার পরও কিংবা তার বাবার রাষ্ট্রদোহীর কাহিনি জানার পরও সেটাকে জায়েজ করার জন্য প্রচারণা চালায় তবে সেটা রাষ্ট্রের জন্য অসম্মানজনক ঘটনা নিশ্চয়ই। 

আর সে যদি বাবার অপরাধের জন্য ক্ষমা চায় রাষ্ট্রের কাছে তবে? তবে নিশ্চয়ই তাকে রাষ্ট্রদোহী আখ্যা দেয়া যায় না কারণ সে আলাদা মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার, ভালোবাসার ঘৃনা করার স্বাধীনতা থাকতেই পারে। দেখলাম দেশের বিশিষ্ট এক সাংবাদিক বললেন, বাবার অপরাধে ছেলেকে অপরাধী ভাবা ঠিক না। সাথে একটু ধর্ম নামক মশলা যোগ করে সেটাতে পাবলিক এট্রাকশন বাড়ানোর পলিটিক্সও বাদ দেন নাই। বাবার অপরাধের জন্য ছেলে ক্ষমা চেয়েছে কখনো? নাকি উল্টো বাবার এজেন্ডাকে জায়েজ করার জন্য পায়তারা চালাচ্ছেন? হায় সেলুকাস আমাদের বিশাল বিশাল সাংঘাতিক এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজ। পেমেন্ট পায় তো ঠিকঠাক নাকি ভাই ভাই হিসেবে গায় মুখে খেটে দিচ্ছেন?

Friday, December 16, 2016

বিজয় দিবস ভাবনা

বিজয় দিবস উপলক্ষে এই গান বাজে কেন? স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেই গান বাজে কেন? পহেলা বৈশাখে হেন কেন তেন কেন, কথাগুলো খুব ন্যাকামো মনে হয় এখন।

একই দোহাই শুনি রোজার মাস আসলেও। কেউ খারাপ কথা বললে, ছিঃ তুই রোজার মাসে এইকথা কেমনে বলিস, রোজার মাসে এইটা কেন করিস সেইটা কেন করিস, সব দোহাই রোজার উপর দিয়া দেয়। ভাবখানা এমন যেন রোজার মাসে যেসব করা যাবে না সেসব অন্যমাসে বুক ফুলিয়ে করা যাবে।

স্বাধীনতা দিবস একটি, বিজয় দিবসও একটিই। কিন্তু তার মানে এই নয় যে একদিনেই উতলে উঠা দেশপ্রেম রাত পোহালেই নিভে যাবে। যারা পাড়ার মোড়ে মোড়ে হিন্দি গান বাজায় তাতে এটাই প্রমাণিত হয় যে বাঙলা গানে তারা জোস পায় না, বাঙলা গান তাদের টানে না। তবে কেন টানে না? গ্যাপটা কোথায়?

সারাবছর হোম থিয়েটারে, প্লে লিস্টে, হেডফোনে হিন্দি বাজতে থাকলে একদিন বাংলা বাজানোর মানে শো অফ ছাড়া কিছু নয়। আমরা তো শো অফের উদযাপন চাই নি, জাস্ট কোর অফ হার্ট থেকে আসুক প্রেমটা, দেশের গান শুনে হৃদপিণ্ডের 'বান্ডেল অফ হিজ' কেঁপে উঠুক এমনটাই তো হওয়ার কথা।

'জাতীয় সংগীত শুনে দাঁড়ানোর কি আছে-' বলে যে লোক ঘাড় ত্যাড়ামি করে তার বিজয় দিবসে নাগিন নাগিসের পরিবর্তে 'ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকায় মাথা' বাজালেই কি দেশপ্রেমের গ্রাফরেখা উর্ধ্বমুখী হয়ে যায়?
প্রজন্মের ভেতর থেকে যদি বাংলাটা ঠিক না আসে তো নাগিন নাগিনইতো বাজাবে, ফিলটাই যদি না আসে সবকিছু তো মেকি মেকিই মনে হবে। মেকির চেয়ে বাস্তবতা নিশ্চয়ই গ্রহনযোগ্য। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হল জাতি হিসেবে আমরা আজও এক হতে পারলাম না। কখনো ধর্মের খড়গ, কখনো রাজনীতি তরবারি আমাদের দু ভাগ করেই রাখে। সরকার নামক শোষিত গোষ্ঠী যেটার ফায়দা লুটে হরিবল হরিবল করে গান ধরে।

বাংলাদেশ হোক মানুষের দেশ। কোন কাঠমোল্লার পৈত্রিক সম্পত্তি না হোক, না হোক কোন উগ্রবাদী ধুতি পরা পুরোহিতের। ধর্ম অধার্মিকদের দায় নেয় না, মানুষ অমানুষদের দায় নিয়ে তাদের শাস্তি দেয়।
.....সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।
সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
ধন্যবাদ বাংলাদেশ।

Monday, December 12, 2016

একটি খারাপ দিন

শনিবার রাত আড়াইটার সময় সেন্ট মাটিন থেকে রুমে আসলাম। সকালে বহু কষ্টে ঘুম থেকে উঠে হাসপাতালে যেত হল। নিউ মাকেটে

শীতের গোসলকে আর নয় ভয়

শীতে আপনি কি গোসল করতে ভয় পাচ্ছেন? বহুবার গোসলখানার দরজায় গিয়েও উল্টো পথে হেঁটেছেন? একদিন গোসল করলেও তিন দিন গোসল না করে বাজারের পারফিউমের দাম চড়ায় তুলে ফেলেছেন? হে হে তাহলে আপনার জন্য এই তরিকা।
  • প্রথমে ঘুম থেকে উঠেই ঘরের ভিতর (চিপা জায়গা থাকলে একই জায়গায়) ম্যারাথন দৌড়ের প্রাকটিস করুন। প্রয়োজনে খাটকে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
  • কিছুক্ষণ পর আস্তে আস্তে গোসলখানার দিকে হেঁটে যান। দরজায় নক করার দরকার নেই। দরজা খোলাই থাকবে গুটি গুটি পায়ে ঢুকে দরজা লক করে দিন।
  • এবার আসল খেলা শুরু, পানির টেপ ছেড়ে দিন। আস্তে আস্তে পানিতে হাত ছোঁয়ান। দেখবেন পানি আপনাকে এমনভাবে ছিটকা মারবে যেন প্রথম ডেটিংয়েই ভুল করে প্রেমিকার হাত ধরে ফেলেছেন।
  • হাল ছাড়া যাবে না। মনে মনে শাকিরার ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান গাইতে থাকুন আর নিজের সম্পূর্ণ শিল্পগুন দিয়ে নাচতে চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন এ গান শেষ হওয়ার আগেই দু হাত পা ভিজাতে হবে।
  •  ভাবুন আপনি বেয়ার গ্রেলস। ম্যান ভার্সেস কোল্ড ওয়াটারে কীভাবে টিকে থাকতে হয় এটা আপনার চেয়ে কেউ ভালো জানে না। এই মানসিক শক্তি আপনাকে অনেকটা কাজে দেবে এ অভিযানে।
  • তারপর মাথা পানির নিচে দিয়ে মনে মনে গাইতে থাকুন ‘ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ দোলা না..!’ আর মাথাকে হাফ সমকোণে অনবরত ঝুলাতে থাকুন।
  • এবার ভাবুন সিসি ক্যামেরায় আপানার এ দৃশ্য লাইভ দেখানো হচ্ছে কোন সুন্দরী আপ্পি সমাজ সমৃদ্ধ লেডিস হলের টিভি রুমে। কি বেইজ্জতি কারবার ঘটে যাবে ভয় পেলে ভাবুন তো!
  • এতোক্ষণে পানিরা আপনার ধৈর্য পরীক্ষায় খুশি হয়ে দেখবেন গরম পানির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। 
  • এবার সব ভাবনা বাদ দিয়ে বাস্তব জগতে আসুন। আর খেয়াল করুন আপনার অফিস টাইম অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে না তো?
  • জানি হয়েছে! সবশেষে খিচ্চা দৌড়ে বের হয়ে যান। হে হে কাপড় পরতে ভুলবেন না যেন! মনে রাখবেন, ‘গোসলের চেয়ে ইজ্জত বড়’। 
  প্রকাশিতঃ ১২-১২-২০১৬

Sunday, December 11, 2016

যুগান্তরের বিচ্ছুতে লেখালেখি

যুগান্তরের রবিবারের ফান ম্যাগাজিন ‘বিচ্ছুে’ তে আমার  লেখালেখি......

১. ১১-১২-২০১৬ -  ভ্যানিটিব্যাগ

Thursday, December 1, 2016

প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ভাবনা

পি.এস.সি. ও জে.এস.সি পরীক্ষা পদ্ধতিতে আর কিছু হোক আর না হোক ছেলে মেয়েরা নকলটা ভালোই আয়ত্ব করতে পারছে।কি হবে এই পরীক্ষার ফলাফল দিয়ে ? কোন চাকরি করতে পারবে কি এই সার্টিফিকেট দিয়ে? একমাত্র অর্জন এ প্লাস লেখা একটা কচুপাতা। বাবা কাকাদের কাছে অনেক গল্প শুনতাম তাদের সময় ছেলেমেয়েরা নাকি বস্তা ভর্তি করে নকল নিয়ে যেত। তারপর আমাদের সময় মোটামুটি নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা হচ্ছে বলে চারদিকে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির জয়ধ্বনি শোনা গেছে। সবাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে আওয়ামীলগের অন্যতম সফল মন্ত্রী হিসেবে অলিখিত ঘোষনা দিয়ে দিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ডিজিটাল পদ্বতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস তার মুখে চুন ছাড়াই কালিমা মেখে দেয়। যে জিনিসটা সবাই জানে সেখানে আমাদের শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয় নাকি কোন অভিযোগই পায় নাই। তার ঘর চুরি হয়ে যাচ্ছে নিজে দেখেও না দেখার ভান করে চোখে কালো চশমা লাগিয়ে বসে আছে। যখন অন্য কেউ এসে বলবে যে মাননীয় মন্ত্রী সাহেব ও মন্ত্রী সাহেব আপনি কোথায়। প্রশ্ন ফাঁস করে তো তাস বানাইয়া ফেলতেছে। তখন তিনি আড়মোরা দিয়ে চোখ ডলতে ডলতে বলবেন ও তাই নাকি.. আচ্ছা আমি ব্যাপারটা দেখতেছি। আমাদের ধর্মানুভুতিতে আঘাত হানলে লতিফ সিদ্দীকির ফাসিঁ দাবি করি ।জাতীয় দৈনিকে তার ফুঁসলে দেওয়া হেডলাইন হয় কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে জাতিকে যে ব্লাক হোলের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে সেটা কারো অনুভূতিতে লাগে না। লাগবেই বা কেন প্রশ্ন ফাঁস হলে তো ভালই ছোট ভাই বোন পরীক্ষা দিচ্ছে এ প্লাস পাবে। পরীক্ষায় পাশটাই বড় কথা শিক্ষাটা নয়। তাছাড়া আমাদের মিডিয়ার কাছে এসব খবরের চেয়ে ক্যাটরিনা কাইফের প্রেমিকের সাথে লং ড্রাইভে যাওয়ার খবরের গুরুত্বটা অধিক। ফেসবুকে শত শত পেজ আছে যেমন পরীক্ষার গোষ্ঠি কিলাই, আমরাই প্রশ্ন ফাঁস করি( গর্বের সাথে বলে), ফাঁস হওয়া প্রকৃত প্রশ্ন ইত্যাদি ইত্যাদি যেখানে প্রতিদিন প্রশ্ন পাওয়া যায়। কিন্তু আমাদের কতৃপক্ষ তা দেখতেই পায় না। না পাওয়ারই কথা এখানে তো কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে নাই বিবেককে লাথি মেরেছে মাত্র। জাফর ইকবাল স্যার এর আগে অনেক চিল্লাপাল্লা করেছেন একা একা অনশন করেছেন তবুও কারো নিউরনে প্রবেশ করে নাই। কী করলে বিষয়টা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইগোতে লাগবে তাও অজানাই রয়ে গেল। পরীক্ষা হবে তার আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁস হবে এটা একটা চিরন্তন সত্য বাক্যে পরিণত হযেয়ে এখন। আমি টিউশনে যখন আমার ছাত্রকে বলি মন দিয়ে পড় তা না হলে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট হবে না আমার ছাত্রের উত্তর স্যার প্রশ্ন তো পাবোই পরীক্ষার আগের রাতে। আমি আর কিছু বলতে পারি না। হুম এটা তো সত্যি কথাই। রাষ্ট্র সামান্য এই প্রশ্নের নিরাপত্তা দিতে পারে না সেখানে অন্য কিছু তো পরে আলোচনার বিষয়। ঘুষ খেয়ে সব অবিবেচক ও অশিক্ষিত লোকদের হাতে রাষ্ট্রের গুরু দায়িত্বের ভার তুলে দিলে এমনটা হওয়া কি স্বাভাবিক নয়? কেহ আবার অভিভাবকদের কাঁধে দোষ চাপিয়ে দিয়ে বলছে তারা কেন এই প্রশ্ন বাচ্চা ছেলেদের হাতে তুলে দিচ্ছে। আরে ভাই এই প্রতিযোগীতার বাজারে আপনার পাশের রুমে যখন কেউ সামনে প্রশ্ন নিয়া পড়তে বসে আপনি কি পারবেন ধোঁয়া তুলসী পাতা হয়ে বসে থাকতে। বুদ্ধিমান অবিভাবক মানেই সুযোগ নিবে কিন্তু অন্যভাবে।আর ধোঁয়া তুলসী পাতা তখনই সম্ভব যখন রাষ্ট্র আপনার সেই মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারবে। তার আগে নয়। গানের সুরে বলতে ইচ্ছে করছে এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি ফটোকপি আর ফেসবুকেতে প্রশ্ন পত্রের ভূমি। আর প্রশ্ন পত্রের ফাঁস যদি একান্ত রোধ করা না যায় তবে আমি দুটি আইডিয়া দিতে পারি। এক. পরীক্ষার প্রতিটা বেঞ্চে দুই জন করে বসবে। একপাশে যে প্রশ্ন পেয়েছে সে বসবে আর অন্য পাশে যে হতভাগা ফেসবুকের যুগে এসেও প্রশ্ন পায় নাই সে বসবে। শিক্ষকরা প্রশ্ন ও খাতা দিয়েই লাইব্রেরীতে গিয়ে ঘুমাবে আবার দুই ঘন্টা পর এসে খাতা নিয়ে যাবে। স্বাধীনদেশে স্বাধীনভাবে পরীক্ষা দেবো যেমন ইচ্ছা তেমন পরীক্ষা দেব তাতে কার কি যায় আসে। দুই. আর যদি তা না হয় তাহলে শিক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করে এই লোক দেখানো পরীক্ষা পদ্ধতিটাই বাদ করে দিন। সাহায্য নিতে পারেন আবুল মনসুর আহমদের “গালিভরের সফরনামা” থেকে। যেখানে শিক্ষাসংস্কার অংশে দেখা যায় শিক্ষা পদ্ধতির সংস্কার করে পড়ালেখা থেকে লেখার পদ্ধতি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে । পাকিস্তান শাসনামলের কহিনীর আলোকে, তাদের ভাষ্য মতে, কোরআন হাদীসে তো সকল কিছু দেওয়াই আছে সুতরাং নতুন করে তো আর হাদীস লেখার দরকার নাই তাই লেখা পদ্ধতির কোন দরকার নাই । সব হবে পড়া । তাতে প্রশ্ন ফাঁসের ভয় নাই আর কলম কেনার টাকাও বেঁচে যাবে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে অনুরোধ করছি এখনো কিছু করুন । প্রকৃত অপরাধীদের ধরে শাস্তি দিয়ে বহিষ্কার করুন আর জাতিকে এই লজ্জার হাত থেকে বাঁচান। আবার যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর স্যার আপনাকে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে।

 রাজীব নন্দী 
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়