Tuesday, October 22, 2019

কষ্ট হচ্ছে হোক


এই যে, তোমার পাশে বসে কত অপরিচিত লোক ভ্রমণ করে,
কোথায় যাবেন? বাসা কোথায় ? বলে কত খোশ গল্প করে,
দশ টাকার বাদাম কিনে তোমার দিকে ঠোঙা বাড়িয়ে ধরে-
তুমি মুচকি হেসে না বলে দাও।
আমি তোমায় ভালোবেসেও তা পারি না।

এই যে, ভিক্ষুকটা ‘সাহায্য করেন’ বলে ভিক্ষা চায়
তার বাড়িয়ে দেয়া হাতে তোমার সাহায্যের হাত রাখো,
কখনো সখনো 'মাফ করেন' বলে তার কথার উত্তর দাও।
অথচ আমিও ভিক্ষুকের মতো দুহাত বাড়িয়ে ভালোবাসা চাইলে মুখ ফিরিয়ে নাও।

এই যে, অসুস্থ কুকুরটাকে কোলে তুলে নাও,
কত যত্মআত্তি  করে সুস্থ  করে তোলো-
আমি না খেয়ে সটান হয়ে শুয়ে থাকলেও জানো না.
জ্বলে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেলেও টের পাও না।

গলির মোড়ের দোকানদার, হকার, ফেরিওয়ালা, কটকটিওয়ালা আসে-
তুমি তাদের চোখের ‍দিকে তাকিয়ে দামাদামি করো-
তারা তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারে অনায়াসে।
আমি পারি না, এক বুক হাহাকার নিয়েও আমার সে সৌভাগ্য হয় না।

বাস কন্ডাকটরও ভাড়া চাইতে এসে ‘ভাংতি পরে নিয়েন’ বলে চলে যায়
তুমি খানিক বাদে বাস কন্ডাক্টরকে ‘মামা ভাংতি হইছে’ জিজ্ঞেস করো।
আমি প্রতিনিয়ত ভেঙ্গে চুড়ে লুটিয়ে পড়লেও খোঁজ নাও না।

বাড়িওয়ালাও নিয়ম করে মাসে একবার ভাড়া তুলতে এসে তোমার দেখা পায়।
মাঝে মইধ্যে সুবিধা অসুবিধা জানতে আসে তোমার কাছে।
অথচ আমি জানি না কবে তোমার সাথে দেখা হবে কিংবা আদৌ এ জীবনে হবে কিনা!

তোমায় এভাবে প্রতিনিয়ত না পাওয়ার কষ্ট হচ্ছে হোক
আমি এক জীবনে অনেক কিছুই না পাওয়া লোক।


রাজীব নন্দী
২৩-১০-২০১৯, সকাল ১১.৩৫
কামাল প্লাজা, বরিশাল মহাশ্মশান।

উৎসর্গঃ আমার দেবীকে


(আমি এ লেখাটা যখন লিখতেছিলাম দেবী তখন বরিশাল ‍টু খুলনা বাসে বাড়ি যাচ্ছে)

Wednesday, October 16, 2019

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের ভয়ংকর কঠিন প্রশ্নসমূহ

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশে এমন কঠিন কঠিন প্রশ্ন করেছে সে সৌরভ গাঙ্গুলির দাদাগিরির গুগলিকেও হার মানিয়েছে... ভাইরে ভাই! আমি হলে এগুলো পারতাম না।

প্রশ্ন ছিল, টু প্লাস টু কখন ফাইভ হয়?
প্রতিযোগী বলল, যখন এক যোগ করা হয়। হোয়াট এ হলি শিট এন্সার।

পরবর্তী প্রশ্ন ছিল, ফুটবলকে কেন ফুটবল বলা হয়?

আমি তো ভেবেই পাচ্ছি না, টানতে টানতে মাথার চুল উঠিয়ে ফেলতেছি তবুও কোনো লজিক খুঁজে পাচ্ছি না। তারপর, একটা অমৃতলালের কারিকর বিড়ির পেছনে আগুন ধরিয়ে বাথরুমে গিয়ে বসে বসে ভাবতে লাগলাম, উহু.. এন্টেনায় কিছুই সাড়া দেয় না। বিড়ি প্রায় শেষ এমন সময়ই মনে পড়ছে, ওহ ফুটবলে তো একটা ফুটা আছে সেজন্যই তো ফুটবলকে ফুটবল বলা হয়।

ওমাইগড, প্রতিযোগী আমার মতো বিড়ি টিড়ি না টেনেই ব্রেইন খাটিয়ে উত্তরটা দিল যে, ফুটবল পা দিয়ে খেলা হয় সেজন্য ফুটবলকে ফুটবল বলা হয়, আমি এটা শুনে চিহ্বায় আর ঠোঁটে এমন কামড় দিলাম যে তিনদিন কোনো ঝোলের তরকারি খেতে পারি নি। ভয়ে গার্লফ্রেন্ডের সাথে আড়াই দিন লিপ কিস বন্ধ ছিল। হোয়াট এ হিউমার লেভেল এবং হিউমার টাইপ প্রশ্ন।

পরবর্তী প্রশ্ন ছিল, বন্দরনগরী বলা হয় কোনটাকে?

আমি ভাবলাম নারায়ণগঞ্জ কিংবা মংলা বন্দর হতে পারে। কিন্তু না, আমাকে ভোদাই প্রমাণ করে দিয়ে এবারের প্রতিযোগীও ঠাস করে বলে দিলেন চিটাগাং। এ তথ্য কখনো বিটিভিতে শুনেছি বলে মনে পড়ে না, জানমুইবা কেমনে। সারাদিন বিটিভি দেখে জ্ঞানের লেভেলের এই শ্রী আমার!

বিচারকও নাছোড়বান্দা, হু হু সহজে ছেড়ে দেয়ার পাত্রী নন। প্রতিযোগিতা করতে আসছো আর সহজেই ইয়েস কার্ড পেয়ে যাবা তা হবে না। সুন্দরী কি বক নাকি যে বাড়ির পাশের ডোবাতে গেলেই পাওয়া যায়, হু। অনেক কঠিন প্রশ্নবানে জর্জরিত করে তবেই ছাড়া হবে।

বিচারক তাই কাউন্টার প্রশ্ন করলেন, পারলে এবার বল তো, চিটাগাংয়ের বর্তমান নাম কী! হে হে, এবার কোথায় যাবা চান্দু! দিছে আটকাইয়া....

ওমজি ওএমজি....  প্রতিযোগী বুয়েট থেকে পাশ করা বুলেট ছাত্রের মতোই বলে দিলেন বর্তমান নাম- চট্টগ্রাম! কেমনে পারলো এতো কঠিন প্রশ্ন। কেমনে! গুগল করে দেখলাম আসলেই তো চিটাগাংয়ের বর্তমান নাম চট্টগ্রাম। শিট!

দে আর নট অনলি বিউটি বাট অলসো বিউটি উইদ হাই আই কিউ। মারেম্মা!

১৬-১০-২০১৯

Tuesday, September 3, 2019

কিচ্ছু বুঝলাম না

- মানুষের উপকার করলে বিপদ আসে। এক বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড ওর সাথে ঝগড়া করে বসে বসে কাঁদতেছে, তা দেখে আমি চোখের জল মুছে দিতে গেলাম আর অমনি বন্ধু রেগে গেল। কিচ্ছু বুঝলাম না।

- বিয়ে বাড়িতে এক লোকের খেতে খেতে খাবার গলায় আটকে যাওয়া অবস্থা। তো এসব খেতে ওনার কষ্ট হবে ভেবে রোস্টটা আমার প্লেটে তুলে নিলাম। অমনি উনি চোখ বড় বড় করে ইংলিশে কী যেন বলে উঠল।  কিচ্ছু বুঝলাম না।

- ব্যাংকে এক লোক দেখলাম একই টাকা বারবার গুনতেছে। ভাবলাম উনি হয়তো গুনতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলে, গিয়ে গুনে দিই। টাকাটা টেনে আমার হাতে আনতে যাব অমনিই চিৎকার করে উঠলো। কিচ্ছু বুঝলাম না।

- এক মেয়ে অনেক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তা পাড় হতে পারছে না। আমি গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে তার হাত ধরে বললাম এবার আমার সাথে আসেন, এই হাতে যাকে একবার ধরে তার আর কোনো ভয় নেই। অমনিই ঠাস করে চড় বসিয়ে দিল। কিচ্ছু বুঝলাম না।

- পাশের ফ্লাটের আন্টি ঝগড়া করে প্রায়ই আংকেলকে বলে, তোমাকে বিয়ে করা আমার জীবনের চরম ভুল হইছে। এটা শুনে একদিন সাহস করে আন্টির পক্ষ নিয়ে বলেই ফেললাম, তাহলে ছেড়ে দেন না কেন এই টাকলু ভুঁড়িওয়ালা মোটকাটাকে। ওমা, এটা বলতেই আন্টি নিজের পায়ের সেন্ডেল খুলে মারলো আমার দিকে। কিচ্ছু বুঝলাম না।

- এক মেয়ে সেদিন, Feeling alone লিখে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিল। ভাবলাম, সেও একা আমিও একা তবে গিয়ে ইনবক্সে করি একটু দেখা। তার আগে কমেন্ট করে নজরে আসি। কমেন্ট করলাম, মি টু। সাথে সাথেই ওর বয়ফ্রেন্ড এসে রিপ্লাই দিল, অন্যের গার্লফ্রেন্ডের সাথে ফ্লার্ট না করে নিজের কাজে মন দেন। এ কী কারবার, কিচ্ছু বুঝলাম না।

- তো, আমার সাথে যখন ক্রমাগত এসব ঘটে যাচ্ছে, যখন কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছিলাম না তখন সিদ্ধান্ত নিলাম আর কারো ধারে কাছেও যাবো না। নিজের মতো একাকি থাকবো। লোকাল বাসে এক মেয়ে বারবার এক্সকিউজ মি, এক্সকিউজ মি ভাইয়া বলে যাচ্ছে, আমি ফিরেও তাকাই না। সে হঠাৎ জামার কলার ধরে চিৎকার দিয়ে বলল, ঐ শালারপুত জুতার উপর পারা দিছোস, জুতা ছাড়। আমি চোখ ছানাবড়া করে তাকিয়ে আছি। তখনও কিচ্ছু বুঝলাম না।

~ কিচ্ছু বুঝলাম না
©রাজীব নন্দী
বিচ্ছু || যুগান্তর
৩০-০৬-২০১৯

ছেলে ধরা?

গলির মোড়ে দুই বন্ধু দুষ্টামি করে মারামারি করতে লাগল। পাশে দাঁড়িয়ে এক পিচ্চি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে তাদের মারামারি দেখছে।

রিকশা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সে দৃৃশ্য চোখে পড়লো রিকশা যাত্রীর। তিনি রিকশা থামিয়ে রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কী দেখো তো। রিকশাওয়ালা আগের জন্মে জ্যোতিষী ছিল তাই ভেবেচিন্তে বলে দিল, স্যার মনে হয় ছেলে ধরা। পাশে দেখেন ছেলে দাঁড়িয়ে আছে আর আরেকজন ছেলেধরাকে মারতেছে। লোকটি রিকশা থেকে নেমেই গিয়ে কোনো ভূমিকা ছাড়াই দুর্বল বন্ধুকে মারা শুরু করলো, একটু পর রিকশাচালকও।

ক্রমে ক্রমে সে মারামারিতে অংশগ্রহণ করল আগত পথচারী....

কোনার মুচি উঠে আসলো হাতে লোহা নিয়ে...

মুদি দোকানি চলে আসলো এক কেজির ওয়েট হাতে....

চা দোকানদার দৌড়ে আসল দুধের পট কাটা ছুড়ি নিয়ে...

সেলুন থেকে ক্ষুর হাতে দৌড়ে আসলো নরসুন্দর...

পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে আসলো আর্তচিৎকার করা রোগী....

জরুরি রক্ত দিতে যাওয়া ডোনার রক্ত গরম করে এসে দুইটা থাপ্পড় মেরে গেল..

পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে টব ছুঁড়ে মারল ইন্টার ফেল ছাত্রী...

জানালা ভেঙে মোটা ভূড়িসহ লাফিয়ে পড়ল অফিসের ঘুষখোর বড় স্যার...

পুলিশের গাড়ি থেকে দৌড়ে ছুটে আসলো খুনের আসামী...

আকাশ পথে যাওয়ার সময় এ দৃশ্য দেখে পাইলট বিমান রেখে ঝাঁপ দিলো জটলার উপর...

লাশবাহী ফ্রিজার থেকে হঠাৎ জ্যান্ত হয়ে উঠে আসলো লাশটাও.....

তারা কেউ দেখে নি এখানে আসলে কী হয়েছে কিন্তু সবাই দৈববাণীর মাধ্যমে জানে এখানে কল্লাকাটা চক্রের ছেলেধরাকেই মারা হচ্ছে।

©রাজীব নন্দী
২২ জুলাই ২০১৯


প্রতিবেশীর প্রতি বেশি কেয়ারিংয়ের একদিন

সদ্য গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে জুটেছি। ব্যাচেলর ছেলেমেয়েরা যে এতটা অবহেলিত এটা গ্রামে থেকে কখনো মনে হয়নি। এখানে একদল ঘুষখোর, প্রতারক, জালিয়াতি, চোরাকারবারি বিবাহিতও সহজে বাড়ি ভাড়া পায় কিন্তু নিরীহ শান্ত-শিষ্ট ব্যাচেলররা বাড়ি ভাড়া পায় না। ভাগ্যিস এক বন্ধুর মামা মন্ত্রীকে দিয়ে বাড়িওয়ালাকে ফোন করিয়েছিল নয়তো এ রুমেও পেট উঁচু করে শুয়ে থাকার সুযোগ পেতাম না।

আমি যেখানটায় উঠেছি সে বিল্ডিংটা সাত তলা। আমি থাকি পাঁচ তলায়। পুরো বিল্ডিংয়ে যত মানুষ আছে তা আমাদের পুরো এক গ্রামের সমান হবে। গ্রামের সবার বাড়ির উঠোন থেকে রান্নার উনুন সবই আমার পরিচিত। কিন্তু প্রায় এক বছর থেকেও এখানে তা সম্ভব হয় নি। আমার পাশের রুমের প্রতিবেশী আন্টিকে প্রথম দেখেছি প্রায় আট মাস পর। ভাগ্যিস দেখা হয়েছিল নয়তো প্রতিবেশী হিসেবে মানুষ থাকে নাকি ভূত তা আমি কখনো জানতেও পারতাম না। আর এসব না জানার পেছনে বড় কারণ আমার অন্তর্মুখী স্বভাব। নিজ থেকে যেচে আমি কারো সাথে কথা বলি না। আর সেজন্যই বোধহয় নিচতলা থেকে সাত তলা পর্যন্ত আমার প্রতিবেশী, সুখে দুঃখের সাথীরা অচেনাই রয়ে গেল। কিন্ত এভাবে আর কত দিন! এবার জাগো, মানুষের সাথে মিশতে শিখো। প্রতিবেশীর খোঁজখবর নাও, তারা খেয়ে আছে নাকি না খেয়ে আছে সেসব দেখে তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসো, প্রতিবেশী কেউ টাকার অভাবে পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়েছে কিনা দেখো। নিজেকেই নিজে বলতে লাগলাম।

তাই অনেক ভেবেচিন্তে মনস্থির করলাম, আজ প্রতিবেশীদের খোঁজ খবর জানবো। প্রতিবেশী হিসেবে এ দায়িত্ব আমি এড়িয়ে যেতে পারি না। সমাজ বইতে কতবার করে এসব পড়েছি ‘প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য’ তা ভুলে গেলে তো হবে না।

নিচতলায় গিয়ে কলিংবেল দিতেই মধ্যময়সী এক মহিলা দরজা খুলে দিল। বললাম, আমি এই বিল্ডিংয়েই থাকি, আপনাদের প্রতিবেশী। ভালো আছেন আপনারা সবাই? ফ্যাল ফ্যাল করে এমনভাবে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে যেন, টিভি সিরিয়ালের মেগা এপিসোড চলতেছে। দুই তলায় কলিংবেল দিতেই একটা পিচ্চি দরজা খুলেই বলল, কাকে চান? আমি বললাম, বাবু আমি তোমার প্রতিবেশী। চকোলেট খাবা? চলো তোমাকে চকোলেট কিনে দিবো। ত্যাঁদড় পিচ্চি, ‘মা ছেলেধরা এসেছে আমাকে নিয়ে যেতে’ বলেই চিৎকার করে উঠল। ওর মা আসার আগেই আমি তিন তলায় চলে এলাম।

দরজায় টোকা দিতেই তা খুলে ধরল একটা ভয়ংকর সুন্দর মেয়ে। কাকে চাচ্ছেন জিজ্ঞেস করতেই বললাল, আপনাকে চাই। আমি পাঁচতলায় থাকি। একই জায়গায় থাকি অথচ আগে কখনো কথাবার্তা হয় নি তাই পরিচিত হতে এলাম, সুখ দুঃখের খবর জানতে এলাম। ওমা, মেয়েটা চোখমুখ লাল করে ধমক দিয়ে বলল, ফাইজলামি করার জায়গা পান না? ব্যাচেলর মেয়ে দেখলেই ফ্ল্যার্ট করতে ইচ্ছে করে? যত্তসব! বলেই ধিরিম করে দরজাটা বন্ধ করে দিল।

হচ্ছে কী এসব! এরা কি ছোটবেলায় সমাজ বইতে ‘প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য’ পড়ে নি। প্রতিবেশীর খোঁজখবর নিতে গেলেও সন্দেহ করে। অথচ গ্রামে আমরা এ মাথা থেকে কুক দিলে ও মাথার লোক চলে এতো। শেষবারের মতো গেলাম সাততলায়। উঁচু তলার মানুষের মনও বোধহয় উঁচু হবে। কলিংবেলের শব্দ শুনেই সবাই মিলে একসাথে দরজা খুলেই বলল, আসুন আসুন। ভেতরে ঢুকতেই জিজ্ঞেস করল, বাসা চিনতে সমস্যা হয় নি তো। আমি মুচকি হেসে বললাম, না না সমস্যা হবে কেন! কী অমায়িক ব্যবহার! উঁচু তলার মানুষ সত্যিই উঁচু হয় তা আজ প্রমান পেলাম। একটু পর ভেতর থেকে কাজের বুয়া বের হয়ে বলল, "এইদিকে আহেন, সব ঠিকঠাকই আছিল তয় হঠাৎ কইরা কী যে অইল বুঝতে পারতেয়াছি না।" বলতে বলতে আমাকে রান্নাঘরে নিয়ে গেল। আমি এতক্ষণে বুঝলাম তারা আমাকে গ্যাসের চুলা মেরামত করার লোক ভেবেছে। আমি বললাম, "আপনারা যা ভাবছেন আসলে আমি তা নই, আমি পাঁচ তলায় থাকি আপনাদের প্রতিবেশী। পরিচিত হতে এলাম।" এইবার কাজের মহিলা বলে উঠল, "খালাম্মা এইতের ভাব তো ভালা দেহি না। আগে কোনো দিন তো দেহি নাই। কীসের পাঁচতলায় থাকে। কোনো ধান্ধা আছে।" বুঝলাম, এখানে আর বেশিক্ষণ থাকা নিরাপদ না। চিকনে বের হয়ে এলাম।

রুমে ঢুকে ফ্যানের নিচে মাথা দিয়ে বসে আছি। আধা ঘণ্টা পর দরজা টোকার শব্দ শুনি। দরজা খুলে দেখি প্রায় বিশ ত্রিশ জন লোক দাঁড়ানো। তাদের ভেদ করে সামনে আসল, বাড়িওয়ালা। আমি নাকি ছেলেধরা, ইভটিজার এবং চোর। সবাই এমনভাবে তাকাচেছ মনে হচ্ছে যেন আমাকে প্যারাসিটেমলের মতো গিলে খাবে । বাড়িওয়ালা বলল, আমি সিসি ক্যামেরায় সব দেখেছি। একটু পর আসল পুলিশ। আমি যতই বলি আমি প্রতিবেশিদের খোঁজ নেয়ার জন্য গিয়েছিলাম, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। আমার কথা কারোই কানে যাচ্ছে না। প্রতিবেশির প্রতি বেশি কেয়ারিং হতে গিয়ে এত ডেয়ারিং কিছু ঘটে যাবে তা আমার সরল মনের জানা ছিল না। এবারের মতো বিপদ থেকে উদ্ধার পেলে জীবনে আর কখনো প্রতিবেশীর খবর নিতে যাবো না।

~ প্রতিবেশীর প্রতি বেশি কেয়ারিংয়ের একদিন
© রাজীব নন্দী
বিচ্ছু || যুগান্তর, ২৫-০৮-২০১৯

Tuesday, May 14, 2019

ধর্ষিতার আর্তনাদ

কবর থেকে এক ধর্ষিতার আর্তনাদ।

আমি তো বাঁচতে চেয়েছিলাম। সত্যি আমি একদম মরতে চাইনি। আমাকে সমাজ মৃত্যুবরনে বাধ্য করেছিলো। প্রতিনিয়ত ধ্বিক্কার দিতো "এই তুই মর বেশ্যা মেয়ে" বলে।

আর কিছু দিন পরই আমার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে। মা বলেছিলো এবার ভাল রেজাল্ট করলে একটা গিফ্ট দিবে। কতোবার জানতে চেয়েছিলাম মায়ের কাছে কি সেই গিফ্ট, মা বললো আগে বললে মজা থাকবে না। আমি আর কখনোই শুনবো না কি ছিল সেই গিফ্ট, আর কখনোই বলবো না মা আমার ঐ যে মেলা থেকে কিনেছি ঐ নীল ড্রেসটা খুজে পাচ্ছি না মা।

কি ছিল আমার অপরাধ? শুধু মেয়ে হয়েই জন্মেছি এই তো। আমি কি জানতাম এই পৃথিবী আমার বাসযোগ্য নয়? মা তুমি তো জানতা মা এই পৃথিবী হায়েনাদের দখলে তবুও কেন আমাকে জন্ম দিলে মা?

বিশ্বাস করো মা আমি তোমার কথা মতোই কখনো কোন ছেলের দিকে চোখ তুলেও তাকাই নি। ওরা প্রতিদিনই আমাকে বাজে কথা বলতো মা তুমি তো জানো। তোমার কথা মতোই আমি সব নিরবে সয়ে গেছিলাম। আমি কতোবার নিরবে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম তবুও তোমার কথা মনে পরতেই আমি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।

আমার তো সেদিন এই পৃথিবীতে আসা উচিত ছিলে যেদিন আমি মুক্ত ভাবে বাঁচতে পারতাম। বড্ড ভুল সময়ে এসে পড়েছি না মা? আমার জন্য তোমাদেরও কতো কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।

ওরা আমায় জোর করে তুলে নিেয় গিয়েছিলো। আমি কতোবার যে ঈশ্বরকে ডেকেছি, তিনিও আমার কথা শুনলেন না, শুনলেন ঐ লম্পট ছেলেদের কথা। আমি তখনি মরে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু শুধু তোমায় শেষ বারের মতো দেখার ইচ্ছে হতেই বেঁচে ছিলাম। আমি জীবিত থেকেও প্রতিটা মুহুর্তে নিজেকে নিজের ঘেন্না হতো, মনে হতো আমি প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে মরে যাচ্ছি।

সেদিন যখন পাড়ার লোকজন তোমার দিকে আঙুল তুলে বললো, শুধু তোমার মেয়েকেই কেন ধর্ষণ করলো আরো তো মেেয় আছে নাকি, মেয়ে সমাজের মান সম্মান সব ডুবালো ছেঃ ছেঃ ছেঃ " বিশ্বাস করো আমার কেন যেন মনে হলো আমাকে ঐ লম্পট ধর্ষণ করেছে একবার আর পুরো সমাজ করেছে বারবার।

মা তোমার স্বপ্ন ছিল আমায় ডাক্তারি পড়াবা, দেশের সেবা করবো আমি আর আজ সেই দেশই আমাকে থু থু দিচ্ছে। এর চেয়ে কষ্ট আর কি হতে পারে।

এখানে খুব শান্তিতে আছি আমি। মুক্তভাবে কথা বলতে পারি হাসতে পারি লাফাতে পারি। কেউ বলে না এই তুই মেেয় এইসব তোর মানায় না। কোন চিন্তা হয় না যে কালও ঐ বখাটেগুলো রাস্তায় দাড়িয়ে থাকবে বলে। আমি খুব শান্তিতে আছি খুব স্বাধীন আমি এই কবরে।

ভাইটা আমার রোজ আমার কবরের সামনে এসে কাঁদে। আমায় ডাকে। আমি তো কলংকিনী মা, আমি কীভাবে কোন মুখে কথা বলবো ওর সাথে। তুমি ওকে মানা করে দিও কিন্তু। ও নাকি আর কখনো দুষ্টামি করবে না খুব ভদ্র হয়ে যাবে আমি ফিরে আসলে। আমি তো থাকতেই চেয়েছিলাম, সমাজ তো আমাকে রাখতে চায় নি ভাই।

আর বাবাকে বলো শুধু শুধু টাকা খরচ করে মামলা করে লাভ নেই। আমি সব দেখতে পাচ্ছি সব শুনতে পাচ্ছি। ওরা খুব ভালো আছে ওদের কিচ্ছু হবে না মা।

ভালো থাকুক দেশ ভালো থাকো তুমিও মা। অটুট থাকুক সমাজের সম্মান প্রতিটি ধর্ষিতার চাপা কান্নায়।
আমি এবার শান্তিতে ঘুমাই।

Monday, May 13, 2019

প্রতীক্ষার অবসান

হ্যালো, কে বলছেন?

আমি মানুষ....

তা তো বুঝতেই পারছি। আমি তো বলি নি আপনি দাঁড়কাক কিংবা কোলাব্যাঙ।

কীসব বিচ্ছিরি কথাবার্তা....

কথার প্রারম্ভিকা এমন উল্টাপাল্টা হলে তো এসব শুনতেই হবে। পৃথিবী বদলায়, কতো গৃহবাসী হয় সন্ন্যাসী, কত ভেষজবিদ্যার সফল প্রয়োগ করেও ঝুলে যায় কপোলের আবরিত  আভরণ, তবুও পৃথিবীর কিছু কুনোব্যাঙের কোনো পরিবর্তন নেই। এরা একই সুরে ডেকে যায় আজীবন।

কোলাব্যাঙ থেকে এখন কুনোব্যাঙ হয়ে গেলাম?

তো কী? পুরনো খবরের কাগজের মতো ফেলে রাখা কাউকে এতোবছর পর তোমার মন খুঁজে পেলো কীভাবে? কোথায় লুকিয়ে ছিলে শুনি ?

যে মনের ভেতর ছটফট করে সবসময় তাকে খুঁজে পেতে হয় না।

এতো সাহিত্য বুলিয়ো না। ওসব সাহিত্যই আমার জীবনটা হাহাকারে ভরিয়ে দিয়েছে।  কবিতা গিলিয়ে গিলিয়ে আমাকে আজীবন দাসত্ব গ্রহণ করিয়েছো। আজ মনে হচ্ছে, সবই ভুল ছিল।

এক জীবনে এক বুক হাহাকার না  থাকলে সেটা জীবন নাকি? এতো বছরেও বুঝতে পারলে না তুমি... স্কেল মেপে সঠিকে নয়, ভুলই আমাদের বেঁচে থাকার তৃষ্ণা জোগায়।

তো আমাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য ফোন করেছো তো? দাও সান্ত্বনা.... গলা ভার করে বলো, নশ্বর পৃথিবীতে সবাইকেই চলে  যেতে হবে । কষ্ট পেয়ো না। ঈশ্বর যা করেন ভালোর জন্য করেন।

ঈশ্বর ছাড়া আমাদের শূন্য ঝুলিওয়ালাদের আর কেইবা আছে?

ঈশ্বর! আমাকে ঈশ্বরের কথা বোলো না।  যখন ঈশ্বরকে ডেকে ডেকে গলা শুকিয়েছি, নোনাজলে ডুবিয়েছি  জোড়া-চোখ, বালিশে চাপিয়েছি আর্তনাদ, ঈশ্বর তখন কোথায় ছিলেন? তাঁর জন্যই আমাকে দ্বিচারিণী হতে  হল।

আচ্ছা, সেসব পরে শুনবো। এখন তুমি কেমন আছ?

খুব ভালো। শীতের পাতাঝড়া  গাছের মতো, দমকা হাওয়ায় নিভন্ত প্রদীপের মতো ভালো আছি।

খুব ব্যস্ত ছিলাম বলে সেদিন আসতে পারি নি। এত বছর পরে তোমার দেখা পাবো, নোনাজলের পর্দা দিয়ে তোমার চোখে তাকানোর সাহস আমার নেই বলে আসা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছি।

হুম, তুমি তো জ্বলন্ত অগ্নি নয়, পুড়ে যাওয়া ভস্ম দেখতে ভালোবাসো।

সেসব ছাড়ো, তোমাকে ও ভিটায় আর থাকতে হবে না। আমরা অন্য কোথাও চলে যাবো।

স্বামী মরে গেলে সে ভিটা বুঝি আর আমার ভিটা নয়? আর এত বছর পর বিধবার প্রতি দয়া দেখানোর দুঃসাহস তুমি কোথায় পেলে?

দ্বিচারিণী হয়ে সংসার গ্রহণ করে নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ করতে পেরেছো কখনো? শরীরের আর মনের ভেতর মহাকাশ সমান দূরত্ব নিয়ে তথাকথিত সংসার হয়, ভালোবাসা নয়।

এতোবছর পর তোমার ভালোবাসার কথা মনে পড়লো? নিজেকে একবারও ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করে না তোমার?

একজন ভবঘুরে মাতালের চেয়ে ভেবেছি ঐ সংসারী জীবনই তোমার সুখের হবে। তোমায় পাওয়াটাই আমার কাছে মূখ্য ছিল না  শৈলী, তোমার সুখে থাকাটাই ছিল আসল। আমি যতদিনে অন্যকিছু বুঝতে পারি ততদিনে তুমি সামাজিক কারাগারে বন্দি।

আমায় কখনো ডেকেছিলে ফেরার আমন্ত্রণে?

বুকের ভেতর দুঃখের ঝরনাধারা বইয়ে দিয়েও আমি তোমায় সূর্যের মতো হাস্যোজ্জ্বল দেখতে চেয়েছিলাম। আমি বুঝি নি, মৃত্যু উপত্যকায় সূর্যের ঐ হাসি কেবল উপহাস ছাড়া কিছু নয়।

তো ভবঘুরে মাতাল মহাশয় কি এখন মাতাল হয়ে আমাকে ফোন করেছে নাকি হৃদয়ের তীব্র ক্ষতের বেদনা ফোন তুলে দিয়েছে হাতে?

এখন সে ক্ষতে নুন ছিটিয়ে খুব সুখ পাও?

পড়ন্ত বয়সে ক্ষত ছাড়া হৃদয়ে আর কীইবা থাকে। স্মৃতিগুলোকে আজ বিশাল বিশাল দুঃখশালা মনে হয়।

স্মৃতি সবসময়ই হরেক রকম কষ্টের অবতারণা করে, হোক সে সুখের কিংবা দুঃখের। তুমি সেটাও ভুলে গেলে শৈলী?

আমি ভুলে গেলে ফোন রিসিভ করেই তোমার গলাটা কী করে চিনেছি বলো? নারীকে ভোলানো যায়, ভুলানো যায় না।

আজ রাখছি তাহলে। তোমার ঠিক করে রাখা ৯ই ফাল্গুনে দুজন নাহয় বাকি কথা বলবো।

কিন্তু তোমার সংসার? তোমার স্ত্রীকে কী বলবে?

অবিবাহিত পুরুষের স্ত্রী থাকে না। কারো জন্য জমিয়ে রাখা আবেগে আমি অন্য কাউকে ভাগ দিতে পারি নি। এটা আমার ব্যর্থতা হয়তো।

ব্যর্থ মানুষ, মাতাল মানুষ। আমায় পেয়ে তোমার কবিতা লেখায় আবার ভাটা পড়বে না তো?

পড়ুক না হয় ভাটা। যে সাগরে ভাটা নেই সে সাগর জোয়ার থেকে বঞ্চিত থেকে যায় আজীবন।

© রাজীব নন্দী

Thursday, February 21, 2019

একজন স্বপ্নযাত্রী: ইতিহাস, বাস্তবতা ও হাস্যরসের মিশেল

ছোটবেলার ভাদাইম্মা ফরিদ যখন কালের প্রবাহে ল্যাংটা বাবা রূপে তুর্যের সামনে আবির্ভূত হয় তূর্য তখন হতভম্ব হয়ে যায়। তার এই মুখোশহীন ভণ্ডামির কারণ জানতে চাইলে গোপনে বলে, “কী করুম ভাইজান - পুরো দেশটাইতো এহোন ল্যাংটা। একটু চোখ বুইজা ভাবলে অন্তরচক্ষু দিয়া হেই ল্যাংটা লেবাস আমনেও দেখতে পাইবেন। আমাগো দেশের রাজনৈতিক নেতারা তো অনেক আগেই দেশটারে বেশ্যা বানাইয়া রাখছে। যে যার মতো কইরা ভোগ করে।”

এটুকু পড়েই বুঝা যায় লেখকের রাষ্ট্রের প্রতি অনুরাগ। পুরো উপন্যাসেই লেখক নিজের কথাগুলোকে চরিত্রের মুখে বুলি হিসবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বর্তমান রাষ্ট্রের দিকে তাকালে হয়তো যেকেউই এটা দেখতে পাবে।

তবে এই দায়ভার কি শুধুই রাষ্ট্রের নেতাদের নাকি সাধারণ জনগণের চরিত্রেও সমস্যা আছে? সেটাই বলছেন অন্যখানে । "মানুষ ও পশুর মধ্যে যেমন ভালোবাসা বিনিময় হয় তেমনি চরিত্রেরও বিনিময় হয়। কোনো কোনো সময় মানুষ পশুর চরিত্র ধারণ করে।"

সবচেয়ে যেটা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সেটা হল বেকারত্বের আর্তনাদ। লেখক কখনো সুনিপুণভাবে তুলে এনেছেন বেকারদের আশ্রয়স্থল মেস লাইফের হাসি কান্নার উপাখ্যান যা তার নিজের জীবন থেকেই নেয়া নির্দ্বিধায় বলা যায়। নয়তো এতো সূক্ষ্ণ বর্ণনা কল্পনা থেকে টেনে আসা প্রায় অসম্ভবই বলা চলে।

"আমাদের দেশে আবার মানুষের নাম তার কর্মের উপর ভিত্তি করে বিকৃত হয়ে যায়। অফিসের বড় কর্তাকে আমরা রহিম সাহেব বললেও ঘরের কাজের ছেলের নাম হয় রহিম্মা।" 

বর্ণনায় কখনো কখনো মুন্সিয়ানাও দেখিয়েছেন। দাড়োয়ানের স্যালুট দেয়ার বর্ণনায় লিখেছেন, "দাড়োয়ান তড়িঘড়ি করে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বাম পা-টা একটু সামনে টেনে ডানহাত কপালে ঠেকিয়ে, ডানপা উঁচুতে উঠায়ে মুহূর্তেই সে পা ফ্লোরে ফেলে দাড়াম করে শব্দসহকারে স্যালুট করে।"

উপন্যাসে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার চরিত্রকে আরো বাস্তব করে তোলে। দাড়োয়ানকে উপন্যাসের নায়ক তূর্য যখন তার স্যার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তার উত্তর ছিল, 'আরেহ মিয়া আমাগো মতো লমা-ছমারে কি বড় সাহেবরা অইসব কইয়া যায়।' জন্মসূত্রে ভোলার বাসিন্দা হওয়ায় ভোলার আঞ্চলিক ভাষাটাকেই তিনি বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন উপন্যাসে। সেই শব্দভান্ডারের কলসি থেকে ঢাকনা তুলে তা উম্মুক্ত করে দেন সবার জন্য।

উপন্যাসটি এই কারণে আরো গুরুত্বপূর্ণ যে এখানে একটি পুরাণ ঢাকার একটা বাস্তব ইতিহাস তুলে ধরেছেন। আশি নব্বইয়ের দশকে যখন এই টাইটানিকসম জাহাজ, জিরাফের মতো মাথা উঁচু করা ভবন এতোটা জনপ্রিয় হয় নি তখন সদরঘাটে ভাসমান হোটেল ছিল। তার উপন্যাসের শুরুতেই সেই ইতিহাস ফুটে ওঠে পাঠকের কাছে। আমার কাছে এই তথ্য আগে সম্পূর্ণ অজানা ছিল।

আগের উপন্যাসগুলো পড়ার সুবাদে বলতে পারি লেখকের ভেতর দেশপ্রেম প্রগাঢ়। তিনি সবকিছুর উর্ধ্বে দেশপ্রেমকে স্থান ছেড়ে দেন।

উপন্যাস থেকে দুটো লাইন কোট করে দিতে চাই পাঠকদের জন্য।
"আসার সময় শাঁখারি বাজার কালি মন্দিরে পুজো দিয়ে আসলেন চান্দুলাল কাকা তূর্যের নামে মানতের। ভালোবাসার কোনো দেশ কাল পাত্র ধর্ম হয় না। ভালোবাসাকে কেবল একটি নিয়ামকেই মাপা যায় আর সেটা হল ভালোবাসা।" এটা আমার কাছে দারুণ লাগছে। চান্দুলাল চরিত্রটাকে এক কথায় বলা যায় মানবতার ফেরিওয়ালা।

আরেকটি কোট  হল-
"পুলিশে দিলে আমিও ওগোরে কইয়া দিমু দোকানে কোন কোন মালের লগে ভেজাল মিশাইয়া মাল বেচেন। তখন বুঝবেন আমি বড় চোর নাকি আপনি!" ফরিদের উক্তি। ফরিদ বাধ্য হয়েই খারাপ পথে হাঁটে। মেসের খরচের জন্য চুরি করে সে। কিন্তু সে চুরি তার কাছে মালিকের চুরির তুলনায় সামান্যই মনে হয়।

পুরো উপন্যাসটাই নায়কের কল্পনার ভেতরে ঘুরপাক খেয়ে যখন শেষ হবে তখন পাঠকের মাথায়ও ঘুরপাক খাবে।
"একদিন একরাতে করেছি প্রেমের সাথে খেলা
একরাত একদিন করেছি মৃত্যুরে অবহেলা।
একদিন একরাত তারপর প্রেম গেছে চলে
সবাই চলিয়া যায় সকলের যেতে হয় বলে।"

পাঠ শেষে এটুকুই বলবো, লেখক নিজের সাথে নিজেই প্রতিযোগিতা করে দিনদিন উতরে যাচ্ছেন। আরো সময় এবং ধৈর্য নিয়ে লিখলে হয়তো আরো ভালো লেখনী পাবে পাঠক। ঔপন্যাসিকের জন্য শুভ কামনা।

উপন্যাস: একজন স্বপ্নযাাত্রী
লেখক: মাহববু-উল-আলম চৌধুরী
প্রকাশনী : ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ
প্রকাশকাল : ২০১৯ বইমেলা

রাজীব নন্দী
২১-০২-২০১৯

Sunday, January 6, 2019

গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান


অনুচ্ছেদ (১-১৪)
........................................
১. এই সংবিধানের মূলমন্ত্র হইবে—আমার বিবাহ আমি করিব, যাহাকে খুশি তাহাকে করিব।

২. পাত্রীর পিতা সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলা হইল—চাহিবামাত্র আপনার বিবাহযোগ্য মেয়েকে বিবাহ দিতে বাধ্য থাকিবেন।

৩. ‘সরকারি পাত্র ব্যতীত আমার কন্যা বিবাহ দিমু না, প্রয়োজনে ঘরের পিলার বানাইয়া রাখমু’—পাত্রীদের প্রতি পিতা সম্প্রদায়ের এরূপ ছেলেমানুষী কথাবার্তা বলা হইতে বিরত থাকিতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে, বেসরকারি পাত্রদেরও বাচ্চা হইয়া থাকে।
'
৪. একজন বেকার ছেলে বিবাহের কথা বলিলেই মুরব্বিরা সমস্বরে গাহিয়া ওঠেন, ‘বিয়া কইরা খাওয়াবি কী?’ বউ মানেই খাদক প্রাণি—এরকম উদ্ভট ধারণার পরিবর্তন করিবার নিমিত্তে অতি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে।

৫. বেকারদের জন্য ‘গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’ 'ম্যারেজ ব্যাংক' কিংবা 'ব্রাইডাল ব্যাংক' নামে ব্যাংক খুলিয়া সেইখান হইতে লোন লইয়া বিবাহ করিবার পথ সুগম করিবার পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

৬. সভ্যতা টিকাইয়া রাখিবার মূল হাতিয়ার হইল জনগণ। তাই এই সংবিধান অনুযায়ী অন্যান্য মৌলিক চাহিদার মতো বিবাহকেও মৌলিক চাহিদা হিসেবে ঘোষণা করা হইলো।

৭.  অনেক পুরুষ একটিমাত্র বিবাহ সম্পন্ন করিয়া দমিয়া যায়, ফুলদানিতে ভিজাইয়া রাখা ফুলের মতো নিস্তেজ হইয়া পড়ে। অতি শীঘ্রই এর সঠিক কারণ জানিয়া তাহা সংস্কার করিবার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

৮. বিবাহের নামে মেকআপ বিজনেস, ফটোশ্যুট বিজনেস, সেলফি ডিজিজের মাত্রা দিনদিন বাড়িয়াই চলিতেছে। সময় থাকিতে এইসবের লাগাম টানিয়া ধরিতে হইবে।

৯. যৌতুকের নাম করিয়া দিনে-দুপুরে কোট-প্যান্ট পরিধান করিয়া সকলের চর্মচক্ষুর সম্মুখে ভদ্রবেশে ডাকাতি বন্ধ করিতে হইবে।

১০. বিবাহের রাতে মেয়েপক্ষের ঘাড়ে হাজার হাজার অতিথি সেবন করাইবার প্রথার নামে লুটপাট বন্ধে সুশীল সমাজের মুখের ঠুসি খুলিয়া এর বিরুদ্ধে কথা বলিতে হইবে।

১১. বিবাহের পর হনলুলু, পাতায়া কিংবা যেকোনো জায়গায় হানিমুন করিবার সম্পূর্ণ খরচ 'গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার'কে বহন করিবে। তবে বাচ্চার দায়ভার পাত্র-পাত্রীই নিজেদেরই বহন করিবে।

১২. যেইদিন বাচ্চার ওয়া ওয়া ক্রন্দন ধ্বনিতে চারদিক মুখরিত হইয়া উঠিবে, সেইদিন হইতে ওই দম্পতির 'গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান' অনুসারে ‘নব-দম্পতি’ তকমা বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

১৩. বিবাহই জীবনের সব। জীবনে প্রচুর বিবাহ করিতে হইবে। তাই বিবাহ-পাগলা সমাজের জন্য এই স্বতন্ত্র ‘গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধান’ ঘোষণা করা হইল।

১৪. পরিশেষে মনে রাখিতে হইবে, বিয়ে যতই হউক না কেন, সন্তান যেন একটির বেশি না হয়। কারণ বিবাহের দায়িত্ব গণবিবাহতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কিন্তু সন্তানের দায়িত্ব যার যার।

©রাজীব নন্দী
প্রকাশিত: ঠাট্টা | ইত্তেফাক
৬-০১-২০১৯ সংবিধান

Tuesday, July 24, 2018

একটা জীবন নাহয় কেটে যাক তীব্র হাহাকারে

প্রিয় শ্রাবণ,
তুমি কি মনে মনে আমার সাথে হুট করে দেখা হয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকো? কলেজের রিসেপশন দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে কি কখনো মনে হয় না তোমাকে এক পলক দেখার জন্য আমি ভোর সাতটায় গিয়ে ওখানটায় বসে ছিলাম? নাকি আমার উপস্থিতি তোমায় বড্ড বিরক্তর জন্ম দেয়। বিরক্ত হতে হতে এতোদিনে তোমার বিরক্তির উপরও মায়া হওয়ার কথা।

যাক সে সেসব কথা।  শ্রাবণ মাসে একটা শ্রাবণপত্র না লিখলে ঠিক যেন হচ্ছে না তাই অনেকদিন পর তোমায় লিখতে বসলাম। এটা তোমায় লেখা আমার এগার নম্বর পত্র। জানি আগের একটিও তুমি পড়ো নি। আমার লেখা তোমার পড়াটা জরুরিও নয়। এ তল্লাটে তুমি পা না ফেলার যে ব্রত গ্রহণ করেছো সেটা অটুট রাখো তোমার অহমিকার মতোই। তোমার ইগোর প্রাচীরে যেন বিন্দুমাত্রও ফাটল না ধরে সেদিকে কড়া নজর রেখো। দেয়ালের ওপারে কি ঘটলো সেসব তোমার কখনোই জানার বিশেষ প্রয়োজন নেই।

আমার দ্বিতীয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা চলে। বারো তারিখ পরীক্ষার পর আবার পনের তারিখ পরীক্ষা ছিল। মাঝের এই দু-দিন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ হেয়ালিপনা বোধহয় করেছি আমি। নিজেকে একটিবারও জিজ্ঞেস করি নি আমি ভুল সঠিক  কিছু করছি কিনা। আমার মন বলছে যাও অামি ছুটে গিয়েছি সেথায়। মন নামক ইঞ্জিনের সাথে শরীর নামক বগিটা লাগিয়ে দিয়েছি মাত্র। আমি জানি এসবের বিন্দুসম গুরুত্বও তোমার কাছে নেই। বারো ঘন্টা পাড়ি দিয়ে তোমায় তিন ঝলক দেখতে পেরেছি এটাই সান্ত্বনা।

আমাদের যে দিন গেছে তা কি একেবারেই গেছে? নাকি কিছু আছে অবশিষ্ট। কথার নিগরে বানানো কথামালা কি একেবারেই মূল্যহীন হয়ে গেছে? ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে গোলাপ কিনে আনে সে তো বেলাশেষে শুকিয়ে পড়ে থাকে ধুলোয়। আমিও কি তেমন একটা গোলাপ ছিলাম?  ভায়োলিনের সুমধুর সুর কেবল সংগীতের বাহবাই পায় ওটা যে তার করুণ আর্তনাদ সেকথা সবাই বেমালুম ভুলে যায়। আমি কি সুরের ছদ্মনামে সে আর্তনাদ ছিলাম?

যাক গে সেসব কথা। কালো ড্রেস পরে সামনের সিঁড়িতে তোমায় বসা দেখে আমার কলিজা ছিঁড়ে যেতে বসেছিল। নিজের কপালকে কেবল অভিসম্পাত দিতে লাগলাম, ভেতরটা যার জন্য ছিঁড়ে যাচ্ছে করুণ আর্তনাদে সে দেবি স্বয়ং আমার সামনে বসা অথচ তিনি আমার নয়। নোনা জলের চিহ্নে যার জন্য বালিশে লেগে আছে, সে আমার নয়। যাকে একবার দেখার জন্য আমি সাতবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে পারি, সে আমার নয়। যাকে চিৎকার করে ভালোবাসি বলতে বলতে নিজের ভোকাল কর্ডের উপর অত্যাচার করতে পারি, সে আমার নয়। যে কখনো ভালোবাসে নি তাকে এই অনুভূতি কখনোই বুঝানো যাবে না। কোনো গল্প সিনেমা দেখিয়েও শেখানো যাবে না। এটা ঠিক অন্য জগতের একটা অনুভূতি। আমি যতবারই ভাবি সে আমার নয় আমার ভেতরে ভেতরে যেন ততবারই আমি মরে যাচ্ছি, দুমড়ে মুচড়ে যেন নিমিষেই ভেঙ্গে পড়ি আমি। আবার দাঁড়াই। শেষ করে দেয়া মানে তো ভালোবাসা নয়।

শ্রাবণ, আমাকে কখনো ভালোবাসতে হবে না। আমি চাই তুমি শুধু এটুকু বুঝো যে কেউ একজন উম্মাদ হয়ে যায় তোমার কথা ভেবে। তুমি শুধু জানো কেউ একজন সত্যি সত্যি তোমাকে ফিল করে, তোমায় ভেবে ভেবে কারো শরীরে প্রচণ্ড গরমেও কনকনে শীতের কাঁপুনি দেয়। তুমি নিজেকে লুকিয়ে রাখো, আড়াল করে রাখো আজীবনের জন্য কিন্তু আমায় কেবল এই মানসিক শান্তিটা দাও যে তুমি জানো কেউ একজন তোমায় ভালোবাসে। তার ভালোবাসাটাকে তুমি গ্রহণ করতে না পারো অসম্মান করো না। তাকে ফিরিয়ে দেয়ার ক্ষমতা তুমি রাখো কিন্তু তাকে অপমান করার ক্ষমতাটা তুমি হারিয়ে ফেল ভালোবাসার দোহাইয়ে এটাই চাই।

একটা জীবন না হয়  কেটে যাকতীব্র হাহাকারে। না পাওয়ার আর্তনাদ ছটফট করুক আমার ভেতর। অনুভূতি ফ্রেমবন্দি করার সিস্টেম থাকলে আমি আমার এই অনুভূতিটা বন্দি করে রাখতাম। আমি ভয়ে তোমার কাছে যাই না তোমার কোনো কটু কথায় যদি আমার এই ডিভাইন অনুভূতিতে ক্ষয় ধরে আমি কি সেটা পুনরুদ্ধার করতে পারবো কি?  বৃদ্ধ বয়সে হাতে লাঠি নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে যখনি আমার মহারাণীর কথা মনে পড়ে চোখের কোনে অশ্রধারা বইবে সেটাই হবে আমার ভালোবাসার জয়। আমি বুঝবো ভালোবাসা মানে পাশাপাশি থাকাই নয়, পাশাপাশি অনুভব করার সক্ষমতা।

যাক। লিখতে থাকলে একটা উপন্যাস হয়ে যাবে। ভালো থেকো। নববধূর শাড়ির ভাঁজের মতো, তোমার কপালের কালো টিপের মতো, তোমার যত্ন করে আগলে রাখা ইগোর মতো। এতক্ষণ শুধু  একাই বকে গেলাম। তোমার সম্পর্কে কিছু জানতেই চাই নি। কখনোই ফের উত্তর আসবে না জাতি তবুও জানতে ইচ্ছে হয়।  এখন তুমি কেমন আছ শ্রাবণ?

- কেউ একজন
২৪-০৭-২০১৮

চুমু উপাখ্যান


- চুমু বিদ্যাকে ইংরেজিতে বলে philematology আর চুমু খেতে বড্ড ভয় পাওয়াকে বলে  Philematophobia

- কারো কপালে চুমু খাওয়া মানে আপনি তার বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা বুঝায়।

- কারো গালে চুমু খাওয়া মানে তার রূপের প্রশংসা করছেন।

- কারো চিবুকে চুমু খাওয়া মানে তার কোনো কাজকে সমর্থন করা।

- কারো নাকে চুমু খাওয়া মানে ভীরুতা ।

- কারো হাতে চুমু খাওয়া মনে তুমি তাকে নিয়ে ভীষণভাবে ভাবো এবং হারানোর ভয় পাও সবসময় এটাই প্রকাশ পায় ।

- কারো ঠোঁটে চুমু খাওয়া ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

- সল্প সময়ের জন্য চুমু খাওয়া মানে আপনি একটা হুদাই কেয়ারলেস পারসন।

- বিয়ের পর বর এবং কনে প্রথম দেখায়ই যদি চুমু খায় তবে তাদের দাম্পত্য জীবন সুখী হবে বলে মনে করা হয়।

- বিয়ের পর কনে প্রথমে যে লিঙ্গের শিশুকে চুমু খাবে তার প্রথমে সে লিঙ্গের শিশু হবে বলে অনেকেই বিশ্বাস করে।

- কোনো পুরুষকে চুমু খাওয়ার পর যদি আপনার মুখে তার গোঁফ আবিষ্কার করেন তবে আপনি শেষ জীবনে অনেক কষ্ট পেয়ে মারা যাবেন বলে অনেকেই মনে করে।

- কোনো মৃত বন্ধুকে চুমু খেলে আপনী সাহসী হয়ে উঠবেন।

- যদি কেউ তার মৃত স্বামী বা স্ত্রীকে চুম্বন করে তবে সে খুব শিঘ্রই বিয়ে করতে যাচ্ছে।

©রাজীব নন্দী

Wednesday, July 4, 2018

ডাক্তার মানেই কি ডাকাত?

....কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে হঠাৎ জিন্স প্যান্টের ডান পকেট থেকে ফোনটা বের করে একজনকে ফোন দিল। বিশ থেকে ত্রিশ মিনিটের মধ্যে একদল লোক এসে হাজির হাসপাতালের সামনে। কারো হাতে লাঠি, কেউ গেট থেকে ঢুকেই এদিক সেদিক তাকাচ্ছে সুবিধাজনক কিছু পায় কিনা! হঠাৎ ঔদ্ধত্য হয়ে সামনে থাকা লোকটি বলে উঠল,
শালা কসাই, রোগীকে রোগী মনে করে না। মনে করে একেকটা ব্যবসায়ী পণ্য। কই শালার চেম্বার কই?
দাঁড়া। আগে আমার কাছ থেকে কাহিনি শুনে তারপর চিল্লাপাল্লা করিস। ডাক্তাররা সম্ভবত এক জোট হয়েছে এবং পুলিশকেও ফোন দিতে পারে। তুই আরো লোক খবর দে। আজকে ওর ডাক্তারি শিখাই দিমু ভালো মতো। বলেই লোকটি ভেতরে চলে গেল। 

....বাতাসে ফোনের রিং ভেসে যাচ্ছে আর লোকজন আসতেছে। চারপাশে লোকজন কানাঘুষা করতেছে, একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করতেছে কীভাবে মারা গেল, জোয়ান নাকি বুড়া, বাড়ি কই রোগীর। উত্তর পেয়ে কিংবা না পেয়ে ডাক্তারকে গালি দিয়ে ক্ষান্ত হচ্ছে।

....হাসপাতালের সামনে ছোটখাটো একটা ঈদের হাটের মত জমায়েত হয়ে গেছে। ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাচ্ছে উপস্থিত জনতার। সবার চোখে মুখে এমন ভাব যেন ডাক্তারের সাথে আগের জন্মের কোন শত্রুতা ছিল। রোগীর আত্মীয় স্বজন প্রায় সবাই ইতোমধ্যে ঘটিবাটি ফেলে হাজির হাসপাতালের সামনে। ভেতরে ঢোকার জন্য সবাই হুলুস্থুল শুরু করে দিয়েছে কিন্তু দরজা ভেতর থেকে লক করা।

....হঠাৎ হ্যান্ডমাইক মুখের সামনে ধরে বের হয়ে আসল সেই লোকটি যে প্রথমে ফোন করেছিল। উপস্থিত জনতার চোখে মুখে রহস্য খেলা করছে। মাইক থেকে বলতে লাগলেন, "আপনাদের মাঝে ও নেগেটিভ ব্লাড আছে কার একটু হাত তুলুন।"

থার্টি প্লাস একজন হাত তুলল। তাকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হল।
তারপর মাইকে বলা হল, "সকাল থেকে অনেক খুঁজে রক্ত পাওয়া যাচ্ছিল না, রোগীর অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন তাই মিথ্যা কথা বলতে হল। সবার কাছে সরি চেয়ে নিচ্ছি।"

....সবার মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল। কেউ কেউ নিচুস্বরে গালি দিয়ে প্রস্থান করতে লাগল। মনে হল কোন ব্লক বাস্টার সিনেমা দেখার জন্য টিকেট কেটে সিনেমা হলে ঢুকেছে কিন্তু যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে শো টি বাতিল করা হল।

© রাজীব নন্দী

শুভ জন্মদিন হার্টলেস কার্ডিওলজিস্ট 2018

রাত ১২:০১ মিনিট। অনেক ভেবেচিন্তে তার নাম্বারে ডায়াল করলাম। রিং হচ্ছে আর আমার ভেতরটা ধুরুধুরু করছে। হার্টবির্ট কন্ট্রোলে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছি তবুও। আমি জানি ফোনটা কখনোই রিসিভ হবে না। আমাকে খাটিয়ায় করে কবরের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় যদি কেউ একজন আমার ফোন থেকে আমার মৃত্যু সংবাদ জানানোর জন্য এই নাম্বারে কল করে তবুও ফোনটা রিসিভ হবে না, আসবে না কোনো রিভার্স কলও।

তবুও মিছে ভাবনা ভেতরে আকুলিবিকুলি করে চলছে। ও ফোন রিসিভ করলে আমি কী বলবো। আমার গলা দিয়ে কি কথা বেরুবে। আমি কথা গুলিয়ে ফেলবো না তো। নাকি কথা বলতে গেলে স্বপ্নের মতো আমাকে বোবায় ধরবে। ভাবতে ভাবতেই দুটো কলের সমাপ্ত হলো। ফোন রিসিভ হলো না।

আচ্ছা, ও কি আমার কলটা দেখেছে। নাকি ফোনটা ওর কাছেই ছিল না। নাকি আমার নাম দেখেই ফোনটা হাতে তুলে রিংটোন সাইলেন্ট করে আবার ফোনটা রেখে দিয়েছে। আমার নাম্বার দেখে কি ও বিরক্ত হয়েছে নাকি প্রথম উইশ করার এই পাগলামো দেখে ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি মেখে ফোন রাখতে রাখতে অজান্তেই বলে উঠেছে, পাগল একটা।
জানি না। আমি এসবের কিচ্ছুই জানি না। আমার ভাবনায় তবুও আমি সব মিশিয়ে নিয়েছি। যেভাবে ভাবনায় মিশে আছে এক পাক্ষিক ভালোবাসার গল্পটা। একটা গল্প ডালপালা ছড়ানোর জন্য কতো আর্তনাদ করে যাচ্ছে। প্রসব বেদনার অবসান ঘটিয়ে বাস্তবে বেড়ে উঠতে চাচ্ছে। কেবল তার গুটিয়ে নেয়া হাত সবকিছু নাখোস করে দিচ্ছে।

ইদানিং বড্ড অসুখ করে আমার। ভেতরে ভেতরে কুঁকড়ে উঠি। থেমে থেমে। রুদ্র গোস্বামীকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে দিলেন আমার অসুখের কথা।
"গা পোড়েনি, জ্বর নয়, তবুও বিস্বাস মুখ
আমাকে পেয়ে বসেছে তোমাকে দেখার দীর্ঘ অসুখ।"
কি ভয়াবহ ব্যাপার। বিজ্ঞানের এই যুগে আমার অসুখ সারানোর মতো কোনো ডাক্তার নেই।

জানি কেউ অপেক্ষা করে না আমার উইশের জন্য। কারো পাহাড়সমান ইগো কখনোই পরাজিত হবে না। তবুও সে নাহয় জেতার দলেই থাকুক, আমি বেহায়ার হয়েই বলি...
"শুভ জন্মদিন হার্টলেস কার্ডিওলজিস্ট"
ভালোবাসায় থেকো, ভালোবাসায় রেখো।
ওহ হ্যাঁ.. শুধু আমার এবং আমাকে।

একজন নূরে আলম

গতরাতে লঞ্চে বরিশাল থেকে ঢাকা আসার সময় মোশাররফ করিমের একটা নাটক খুুব মনোযোগ দিয়ে দেখেছিলাম। নূরে আলম। জ্যোতিষী এই নূরে আলমের হাত দেখে বলেছিল, সামনের জৈষ্ঠ্য মাসের এক তারিখ তার সাথে সময়ের ব্যস্ততম অভিনেত্রী নায়িকা অপি করিমের বিয়ে হবে। সে জাস্ট অপি করিমকে গিয়ে বললেই হবে, "হে অপি করিম আমি তোমার হবু স্বামী নূরে আলম তোমাকে বিয়ে করার জন্য চলে আসছি।" অপি করিম তাতেই রাজি হয়ে যাবে।
বেচারা নূরে আলমের সাদা মনে কাদা নাই। প্রথমে সিনেমা হলে গেলেন। সেখানকার লোকজন বললেন, অপি করিম এফডিসিতে থাকেন। এলেন এফডিসি। তাকে দাড়োয়ার ঢুকতেই দিচ্ছে না। বহু কষ্টে অপি করিমের বাসার ঠিকানা খুঁজে বাসায় এলেন হাতে ফুলের তোড়া আর গিফট নিয়ে। তার সরল বিশ্বাসে কেনা সে ফুলের তোড়া দাড়োয়ার ছুঁড়ে ফেলে দিলেন রাস্তায়।

নূরে আলম নাছোড়বান্দা। জ্যোতিষী বলেছে মানে এটা সত্যি। অপি করিমের বাসার সামনে ব্যানার টানিয়ে সেখানে লিখে রাখলেন, ‘অপি করিম, আমি নূরে আলম তোমার স্বামী। তোমাকে বিয়ে করার জন্য চলে এসেছি। সে ব্যানারও ভস্ম হয়ে গেল দিয়াশলাইয়ের আগুনে। পুলিশ দুবার অ্যারেস্ট করে নিল তবুও কাজ হল না। সবাই মোটামুটি ভেবে নিয়েছে সে পাগল।

তারপর অপি করিমের বাসার সামনে অনশন শুরু করলেন। বৃষ্টিও তাকে বাসার গেটের সামনে থেকে সরাতে পারে নি। অবশেষে অপি করিমের মনে হল তারসাথে কথা বলা দরকার। তাকে ভেতরে ডাকলেন। তিনি যে বিবাহিত এবং জ্যোতিষী যে তাকে মিথ্যে বলেছে এটা বুঝিয়ে বললেন নূরে আলমকে। বিশ্বাসের ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়া নূরে আলম কাঁদো কাঁদো চোখে বাসা থেকে আনা রুমালে প্যাঁচানো আংটিটা বের করে অপির হাতে দিয়ে প্রস্থান করলেন।

নূরে আলমের এই আবেগ, এতো অনুভূতি কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারে নি। কেবল সেই নূরে আলমের মৃত্যু সংবাদ অপি করিমকে ছুৃঁতে পেরেছে। তার মনে হয়েছে তিনি অপরাধী। তবে কি স্রেফ ভালোবেসেই কাউকে আপরাধী করা যায়?

আমাদের হয়তো কোনো জ্যোতিষী না বলে দিলেও সবার জীবনেই বোধহয় একজন অপি করিম থাকে যাকে পাওয়ার জন্য আমরা মরিয়া হয়ে উঠি। পৃথিবীর সব নিয়মকে উপেক্ষা করে আমাদের ভেতরের নূরে আলম নাছোড়বান্দা হয়ে ওঠে। কিন্তু আমাদের জীবনটা ক্যামেরার সামনে রোল করা ফিল্ম নয়, তাই আমরা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারি না। কেবল নীরবে ভালোবাসার মানুষটাকে ভেতরে ধারণ করতে পারি। এটাই বা কম কী!

- রাজীব নন্দী
৪-৭-২০১৮

Saturday, May 26, 2018

একটি নিগূঢ় দাম্পত্য কলহ

উপন্যাসটিতে একটি কথা বারবার বলা হয়েছে তা হল, মানুষ তার নিজেকেই সবচয়ে কম চেনে। উপন্যাস শেষ করার পর যথন থ হয়ে রইলাম তখন আমার কেবল মনে হল, পুরষ নারীকে সবচেয়ে কম চেনে কখনো কখনো চিনতেই পারে না। পৃথিবীর সব রহস্যের প্যাঁচ হয়ত একদিন খুলে যেতে পারে, কিন্তু নারী মনের রহস্য পুরুষ কখনো জানতে পারবে না। পুরোটা জীবন শরীরের প্রতিটা কোষের অধিকার দিলেও বেলাশেষে চোখের কোনের কালো বিন্দুটা অপরিচিতই থেকে যায়। তবে কি সত্যি নারীকে চেনা সম্ভব নয়! আবার পুরুষ এদের প্রেমে পড়ে যতই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যাই বলুক না কেন এদের আসল কথাটা বুঝতে অসুবিধা হয় না। অন্যদিকে পুরুষ নারীর সব পরিবর্তন ঠিকঠাক বুঝতে বরাবরই ব্যর্থ হয়।

শৈবাল উপন্যাসের নায়ক। কামুক পুরুষ। মাতাল যেমন রোজ মদ না খেলে থাকতে পারে না, তার দেহের ক্ষুধাটাও যেন অনেকটা সেরকমের। দেহকে ছাপিয়ে স্ত্রী শিখার মনের চৌকাঠ পেরুতে পারেন নি। নিজের বাবা হওয়ার অযোগ্যতার কথা স্ত্রীর কাছে গোপন করার ফল যে স্ত্রী বিয়োগের কষ্ট হয়ে ফিরে আসবে সেটা সে বুঝতে পারেন নি। যখন বুঝতে পেরেছিলেন তখন হয়ত বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল। তবে কি দাম্পত্য জীবনের সব সমস্যা খোলাখুলি বলে দেয়াই উচিত?

নারী রহস্যময় হলেও অকপটে মনের সব কথা বের করে দিতেও অসুবিধা হয় না সেটা প্রমাণ পাওয়া যায় শিখা যখন নিজ থেকেই মামা উমেশের সাথে ঘটনাচক্রে শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সেটার সরল স্বীকারোক্তির মাধ্যমে। মা হওয়ার অদম্য বাসনা নিয়ে হয়ত বেঁচে থাকে প্রত্যেক নারী। কিন্তু সে সন্তান ভালোবাসার ফসল হওয়া চাই। শৈবাল যখন সবকিছূ মেনে নিয়ে উমেশের ছেলেকেই নিজের ছেলে বলে মেনে নিতে চেয়েছিল তখন শিখা বলেছিল, এ সন্তান রজতদার হলেও আমি মেনে নিতে পারতাম কিন্তু এ যে উমেশের রক্ত। রজতদা শিখার বাল্যকাল থেকেই পরিচিত। দুজন দুজনকে ভালোবাসতো কিন্তু মুখ ফুটে বলার আগেই মাঝখান দিয়ে শৈবাল এসে শিখাকে তুলে নিয়ে আসল। তাতে কি মনে মনে ভালোবাসাটা তো রয়ে গেছে। মুখে যতই ভদ্রতার স্পিচ ফুটাই না কেন মানুষ মাত্রই যে আমরা দ্বিচারী সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঝেমধ্যে অবিবাহিত কলেজ অধ্যাপক রজত শিখার বাড়িতে এসে জানান দিয়ে যেত কাউকে না পেলেও আজীবন ভালোবাসা যায়। বিয়েটাই ভালোবাসার সফল পরিণতি নয় বরংচ এটা বিশ্বাস করাটা হল স্বৈরাচারীতা।

কেউ যখন নিজের সমস্ত পাপের কথা অকপটে স্বীকার করে নেয় তখন তাকে ক্ষমা বই শাস্তি দেয়া যায় না, সে আপনা আপনিই শাস্তি পায়। শিখাও নিজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেটাই করলো। একটি গর্ভপাত শরীর হয়ত শরীরকে বিশুদ্ধ করে দিতে পারে কিন্ত মনের অশুদ্ধতার হাত থেকে রেহাই দেয় না। সেটা ভেবেই কি বিয়ের আট বছর পর এ সিদ্ধান্ত! 

উপন্যাস: জবাব
লেখক: সমরেশ বসু


২৬.০৫.২০১৮

Tuesday, May 22, 2018

বানিজ্য মেলায় যেসব স্টোর থাকা জরুরি

fvBevwR †÷vit
†ZjevwRi ‡¯úwmwdK fvm©b nj fvBevwR| GLv‡b cvIqv hv‡e D`xqvb †bZv‡`i cÖksmv Kivi KviY Lyuy‡R bv ‡c‡jI Kxfv‡e cÖksmv Ki‡Z nq| fvB‡qi ‡cÖvdvBj wcKPvi †_‡K ïiæ K‡i fzj evbv‡b †jLv ÷v¨vUvmI †kqvi †`qvi Av`k© wbqgKvbyb| fvB Pvu`vevwR wKsev A¯¿nv‡Z cwÎKvi †nWjvBb n‡jI Kxfv‡e AvuZwkKvP w`‡q Lyu‡R †mUvi cwRwUf w`K ‡ei Ki‡Z n‡e Zv cvIqv hv‡e GB †÷v‡i| wb‡R KzKz‡ii †ND †ND ïb‡jB f‡q jyw½ †i‡L cvjv‡jI fvB‡qi Rb¨ †h Rxeb w`‡Z m`v cÖ¯‘Z Av‡Qb Zv ivRbxwZi fvlvq Kxfv‡e my›`i K‡i wjL‡eb ‡m ‡KŠkj GLv‡b †kLv‡bv n‡e myjf gy‡j¨| wg_¨v‡K ˆkwíK fvlvq Kxfv‡e mZ¨ ej‡eb fvB‡qi Mjvq Mjv wgwj‡q †mmeI cvIqv hv‡e GLv‡b| GB ‡÷v‡ii †køvMvb n‡e, Ômemgq cv‡k AvwQ fvBÕ|

‡eªKAvc †÷vit
K_vq Av‡Q, ÔNywg‡q Av‡Q mKj †eªK Avc me †cÖ‡giB AšÍ‡i|Õ b`xi K~j Avi †cÖg †h‡Kvb mgq †f‡½ †h‡Z cv‡i| Z‡e GB †eªK Av‡ciI wKQz wbqgKvbyb _vKv DwPZ| GKUv wjwLZ WKz‡g›U _vKv DwPZ bq‡Zv wKQzw`b ci †cÖwgK wKsev ‡cÖwgKv hw` wd‡i G‡m e‡j †h bvn Avgv‡`i †eªK Avc nq wb ZLb cÖgvY¯^iƒc GB WKy‡g›U Avcbv‡K mvnvh¨ Ki‡e| ZvQvov †eªK Avc n‡j †cÖwgK-†cÖwgKv ci¯ú‡ii bv‡g ‡`vlv‡ivc ïiæ K‡i hv G‡Kev‡iB AbywPZ| KLb †eªK Avc Ki‡j ‡mUv `xN©¯’vqx Ges myLKi n‡e, †Kvb gvm †eªK Av‡ci Rb¨ Dc‡hvMx, wZw_, ivwk, bÿÎ Gme †`‡L †eªK Avc †Kb Ki‡eb  GiKg nvRv‡iv ‡KŠkj cvIqv hv‡e GB †÷v‡i|

‡dmeyK wm‡j‡eªwU nvDRt
cvovi †gv‡o †gv‡o U‡Oi †`vKv‡bi g‡Zv GLb †dmey‡Ki Avbv‡P Kvbv‡PI †dmeyK wm‡j‡eªwU‡`i e¨vcK Dcw¯’wZ †`Lv hvq| bZzb †dmeyKviiv Zv †`‡L eyK dzwj‡q ‡dmeyK wm‡j‡eªwU nIqvi ¯^cœ †`‡L| Z‡e †dmeyK wm‡jweªwU †Zv Avi cÖkœdvu‡mi g‡Zv †mvRv KvR bq †h PvB‡jB d‡UvKwci †`vKvb †_‡K wK‡b Avb‡e| †mRb¨ wKQz †m‡µU Kjv‡KŠkj Rvbv Riæwi| Kxfv‡e weZwK©Z †cv÷ w`‡q UvBgjvB‡b Avm‡Z nq, Kvi †g‡mR wmb K‡i †i‡L ‡`‡e Avi Kv‡K Ô†cvKÕ w`‡Z n‡e, Kxfv‡e Ávbx UvBc K‡g›U Ki‡Z nq Gme ‡KŠkj cvIhv hv‡e GB †÷v‡i| my›`ix‡`i Bbe‡· cÖ_‡g Kx wj‡L Zvi g‡bv‡hvM AvKl©Y Ki‡Z nq, Ae‡k‡l ¯ŒxbkU †K‡jsKvwi‡Z †du‡m †M‡j †mLvb †_‡K Kxfv‡e ‡KŠk‡j d‡jvqvi evwo‡q wd‡i Avm‡e ZvI †kLv‡bv n‡e GB ‡dmeyK wm‡j‡eªwU nvD‡R|


‡gvwUfkbvj w¯úP Kbv©it
gv‡Qi evRvi †_‡K kv‡Ki evRvi AvRKvj meLv‡bB †gvwU‡fkbvj w¯úKvi‡`i RqRqKvi| GKRb wfÿzKI my‡hvM †c‡j Avcbv‡K †gvwU‡fkbvj w¯úP ïwb‡q hv‡e| ZvB †gvwU‡fkbvj w¯úKvi n‡Z cv‡i Avcbvi †ckv| nvZ cv bv _vK‡jI Kxfv‡e ‡Kej g‡bve‡ji Dci fi K‡iB WªvBwfs Ki‡eb, ¯§vU©‡dvb bv _vK‡jI Kxfv‡e ‡Kej B”Qvkw³i e‡j cy‡iv c„w_ex Avcbvi nv‡Zi gy‡Vvq ivL‡eb, cov‡kvbv bv K‡iI †Kej AvZ¥wek¦vm †i‡LB me cixÿvq mdjZvi mv‡_ cvk K‡i Avm‡eb, ‡cÖwgKvi Ab¨Î we‡q n‡q †M‡jI †Kej fv‡jvevmvi †Rv‡i †cÖwgKvi ev”Pvi evev n‡eb Zv K‡qKRb AwfÁ †gvwU‡fkbvj w¯úKvi Øviv †kLv‡bv n‡e| AZtci ivZvivwZ AvcwbI n‡q †h‡Z cv‡ib ‡`‡ki bvgKiv GKRb †gvwU‡fkbvj w¯úKvi|

BDwUDevi c¨v‡jmt
BDwUDwes K‡i ‡Kej wK¬K Avi wfD‡qi Dci fi K‡i ÷vi n‡q hv‡”Q mg‡qi cwikÖgx wµ‡qwUf †Q‡jiv| evwoi Qv‡`i dz‡ji Ue †_‡K ïiæ K‡i ev_iæ‡gi ev_Ue meB AvRKvj wfwWI GwWwUs K‡i BDwUD‡e Avc‡jvW n‡q hv‡”Q| ZvB ÷vi n‡Z n‡j BDwUDe GLb me‡P‡q fv‡jv gva¨g| GB BDwUDe nvDR Avcbv‡K †kLv‡e Kxfv‡e wb‡R iv¯Ívi cv‡k g~Î wemR©b Ki‡jI †mme wfwWI bv K‡i A‡b¨i g~ÎwemR©b `„k¨ wfwWI K‡i mgvR cwieZ©‡bi ‡køvMvb w`‡eb| Kxfv‡e A‡b¨i wfwWI wb‡Ri bv‡g KwcivBU K‡i wb‡eb| iv¯Ívi cv‡k gvivgvwii `„k¨ wKsev †ivW GKwm‡W‡›U AvnZ gvbyl‡K wfwWI K‡i Kx K¨vckb wjL‡j e„wói g‡Zv K‡i jvBK K‡g›U co‡e Zvi †Mvcbxq †KŠkj †kLv‡bv n‡e GB BDwUDe nvD‡R|

Wednesday, May 16, 2018

যৌতুক

আজ এক কাকার সাথে কথা বলতেছিলাম। তার মেয়ের বিয়েতে তিনি কী কী যৌতুক দিবেন সেসব বলতেছিল। সবকিছুর পর ছেলে নাকি খুব আবদার করে বলছে, তাকে একটা মোটর সাইকেল দিতেই হবে। হা হা হা..
.
আমি একটু নাক ছিটকে বললাম, এসব কেমন কথা। আমি তো আমার বিয়েতে কোনো যৌতুক নেব না। কাকাজী এইবার বুক ফুলিয়ে বললেন, এইতো বাপের বেটার মতো কাজ করবি।
.
আগে সমাজে অশিক্ষা, অনেক কুসংস্কার ছিল যে সমাজ মেয়েদের খাটো করে দেখতো। কিন্তু এই 2018 সালে এসেও যৌতুক নেওয়াটা মানতে কষ্ট হয়।
.
যৌতুক নিয়ে যারা বিয়ে করে এদের কাছে বিয়েটাকে কেবল বিয়েই মনে হয়। এটা তো একটা সম্পর্ক। টাকা-পয়সা নিয়ে ডিল করে তো ব্যবসা হয় আত্মীয়তাও হয় নাকি? বিষয়টা এমন যে, তোমাদের সাথে আমাদের আত্মীয়তা হবে যদি তোমরা আমাদের এতো টাকা আর এতোগুলো জিনিস দাও। ডাকাতরা তো রাতের বেলা ডাকাতি করে আর এই যৌতুকের বিয়েতে দিনেদুপুরে ভদ্রলোক সেজে ডাকাতি হয়। এদের নিজেদের আত্মসম্মান সম্পর্কে নিজেদেরই ধারণা থাকে না। নিজের হবু শ্বশুরের কাছে, হবু বেয়াইর কাছে, হবু বেয়াইনের কাছে আত্মসম্মান কখন বিক্রি করে ফেলে নিজেরাই টের পায় না।
.
যৌতুক নিয়ে বিয়ে করার পর যে পুরুষ নিজের স্ত্রীর কপোলে হাত রেখে বলবে, 'আমি তোমাকে ভালোবাসি'; তার মত পিউর স্বঘোষিত ভণ্ড আর দ্বিতীয়টা নাই।

লিটনের ফ্ল্যাট

প্রেমিক আর চোরের মাঝে বড্ড মিল আছে। দুজনকেই পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হয়। ঘরে থাকলে একদমই আমার একমাত্র গার্লফ্রেন্ডটার সাথে কথা বলতে পারি না। ফিসফিস করে আর কতক্ষণ কথা বলা যায়। তাই বের হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলতেছি....
- বেইবি, আমরা কোথায় হানিমুন করবো জানো?
- কোথায় বাবু?
- পাতায়া।
- পাতায়? পাতায় কেন? গাছতলায় লতাপাতা কুড়িয়ে সেখানে হানিমুন?
- আরেহ, পাতায় নয় পাগলী, পাতায়া বীচ, থাইল্যান্ড।
- উমা, সত্যি?
- থ্রিপল সত্যি।
- তাহলে চলো কালই বিয়ে করি এবং এক সপ্তাহ পর থাইল্যান্ড চলে যাই।
- শোনো, একটু…

বলতেই হঠাৎ পেছন থেকে খোঁচা মেরে একজন জিজ্ঞেস করতে লাগল,
- ভাই লিটনের ফ্ল্যাট-টা কোনদিকে?
প্রশ্ন শুননেই লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলাম। কি ব্যাপার, লিটনের ফ্ল্যাটে এভাবে কেউ ঢোল বাজিয়ে যায় নাকি! নাহ, লোকটা তার অবস্থানে অনড়, একটুও হাসলো না। আমি আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। লোকটা একাই। উনি একা একা লিটনের ফ্লাটে গিয়ে কী করবে। জীবনে কাউকে একা লিটনের ফ্ল্যাটে যেতে শুনিনি।
এ পরিস্থিতিতে মুচকি না হাসলে কথা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হবে। ফোনটা রেখে হাসি হাসি মুখে বললাম,
- সাথের জন কই? পরে আসবে?
- কে ভাই? আমি তো একাই আসছি।
কি বাজে ব্যাপার। তবে কি লোকটা আমি যে লিটনের ফ্ল্যাটের গল্প জানি সেটাও জানে না, নাকি সত্যি সত্যি এ পাড়ায় লিটন নামের কেউ আছে যিনি ফ্ল্যাট ভাড়া দেন।
বললাম, আপনাকে কে দিল এই লিটনের ফ্ল্যাটের ঠিকানা?
লোকটি বলল, ভাইয়া আমি নতুন আসছি এই শহরে। কয়েকদিন যাবত বাসা খুঁজতেছি। তো ওখাানে দেখলাম লেখা 'ফ্ল্যাট ভাড়া হবে' নিচে নাম লেখা 'লিটন' । ফোন করলাম বন্ধ পাচ্ছি। তাই সামনে এসে আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম।

গল্প - লিটনের ফ্ল্যাট।

প্রশ্নফাঁস ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকালের পরীক্ষা

একদিন পত্রিকার লিড নিউজ হল....

"প্রশ্নফাঁস ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকালের পরীক্ষা""

পত্রিকার লিড নিউজ দেখে সবার তো চোখ ছানাবড়া। OMG এটা কীভাবে সম্ভব। ফেসবুক, টুইটার চারদিকে আলোচনার ঝড় উঠে গেল। আমাদের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কী তবে ঘোড়ার ঘাস কাটে নাকি ফোনে লুডুস্টার খেলে। এতোদিনে রেকর্ড ব্রেক করে কীভাবে প্রশ্নফাঁ ছাড়া পরীক্ষা হল! এবার তো গিনেস বুকে নাম উঠতে যাচ্ছে তবে। বিসিএসে নতুন প্রশ্ন সংযোগ হবে, "কত তারিখে প্রশ্নফাঁস ছাড়া পরীক্ষা হয়েছে?"
এইতো কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী ভালোয় ভালোয় 'ওয়ার্ল্ড এডুকেশন কংগ্রেস গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড 2017' পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেন। সবাই কি সুন্দর পুত পুত করে অভিনন্দন জানালেন। তবে কি পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেবে কমিটি! এটা নিয়েই জনমনে সংশয় দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ সেই পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্য জোরালো দাবি তুললো। নাহ, এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য না কিছুতেই। পরীক্ষা পদ্ধতিতে একটা ধারা চালু ছিল। সেটা তিনি ধরে রাখতে পারেন নি। এটা তার ব্যর্থতা।
লেখকরা বড় বড় কলাম লিখতে শুরু করলো। সারাদেশের সম্মানিত শিক্ষক সমাজ শাহবাগে এসে আমরণ অনশন করতে লাগলো। প্রশ্নফাঁস ছাড়া পরীক্ষা হু, ছেলের হাতের মোয়া পাইছে নাকি! ব্যানারে ব্যানারে শ্লোগান, "প্রশ্নফাঁস ছাড়া পরীক্ষা মানি না, আমরা কিছু জানি না।" কেউ প্লেকার্ডে লিখে আনছে, প্রশ্নফাঁস ছাড়া প্রহসনের পরীক্ষা, শিক্ষামন্ত্রী মুড়ি খা।" একজন নামজাদা লেখক 'তোরা ঢাকার শহর রক্তে ভাসাইলি' নামানুসারে বই লিখলো 'তোরা ঢাকার শহর প্রশ্নে ভাসাই দে'। যত যা হোক প্রশ্নফাঁস ছাড়া পরীক্ষা জাতির বিবেক হয়ে শিক্ষকসমাজ কীভাবে মেনে নেবে হু।
শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে ডাকলেন। এক সাংবাদিক মুখের উপর প্রশ্ন ছুড়ে মারলেন, "আপনার আমলে প্রশ্নফাঁস ছাড়া পরীক্ষা হল আপনি এটার কি ব্যাখ্যা দিবেন।" মাননীয় মন্ত্রী বসুন্ধরা টিস্যুতে ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, "দেখুন, আমি ঘুমে থাকি, আমার খবর থাকে না।" তারপর মুখ ফসকে বলে ফেললেন, সত্যি বলতে আমি নিজেও অবাক, কীভাবে হল এই ভুলটা। আমি নিজের ভুল স্বীকার করে নিচ্ছি এবং আজই এই ব্যর্থতার জন্য পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু পদত্যাগ পত্র লেখার কাগজ খুঁজে পাচ্ছি না বলে লেখা হয়ে ওঠে নি।"
অতঃপর,
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজি প্রেস থেকে শুরু করে পাড়ার ফটোকপির দোকান সব খতিয়ে দেখা হল। ফেসবুক, টুইটার, ইমো, ইনস্টগ্রাম, ট্যাংগো, উই চ্যাট সব চেক আপ করা হল, না কোথাও প্রমাণ মিলল না। ফেসবুকে যে পেইজে ফোন নাম্বার দিয়ে প্রশ্ন বিক্রি করে ওদের পেইজে গিয়ে দেখা গেল স্ট্যাটাস দিয়ে রাখছে, ফিলিং স্যাড।
তবে কি সত্যি সত্যি হয়েছে, আসলেই হয়েছে?.. কী? প্রশ্নফাঁস ছাড়া পরীক্ষা।

©রাজীব নন্দী

নিষিদ্ধ দ্বিপদী'র প্রচারণা

হম।
স্টল নং 159
পাওয়া যাবে।
নাহ, আগেরটাই।
ইনবক্সে চার- পাঁচ(শ) জনকে এসব উত্তর দিতে দিতে কিবোর্ড হ্যাং হয়ে গেছে। তাই বন্ধুর কিবোর্ড ধার করে এই পোস্টটা লিখলাম। ওহ, বলছিলাম আমার প্রথম বই 'নিষিদ্ধ দ্বিপদী'র কথা। যাদের গতবছর মহাব্যস্ততায় কেটেছে, বাসায় থাকলেও 'নিষিদ্ধ দ্বিপদী' পড়ার জন্য মন পড়ে ছিল বইমেলায়, 'নিষিদ্ধ দ্বিপদী' ছাড়া যারা বইয়ের সেল্ফ অপূর্ণ মনে করছেন কিংবা দেখি এতোএতো নাম শুনেছি কোন ছাইপাঁশ লিখছে দেখি, পড়ে একটা নেগেটিভ রিভিউ দিয়ে ওনার এই তোড়জোড় ছুটিয়ে দিচ্ছি, এরকমটা ভাবছেন। তাদের জন্য বলছি, গতবছরের মতো 'নিষিদ্ধ দ্বিপদী' এবারও শোভা পাচ্ছে বইমেলার পুরোটা জুড়ে।
কীভাবে আসবেনঃ
দেশের যেকোন প্রান্ত থেকে রাজধানী ঢাকায় চলে আসুন। তারপর যেকোন অন্ধ, বোবা লোককে জিজ্ঞেস করুন, '"অ্যাঁ মিয়া ভাই, বইমেলা কোথায় হচ্ছে, কীভাবে যাবো।” সে আপনাকে পথ বাতলে দেবে।
যাদের শিডিউল মাসের প্রথমেই করা শেষ তাই কোনোভাবেই আসতে পারবেন না, তাদের জন্য রয়েছে হোম ডেলিভারি সিস্টেম। আর সিস্টেম পরিচালনার দায়িত্বে আছেন Rijvi Ahmed Jibran ভাই। জাস্ট ইনবক্সে হিম।
মেলায় কোন ব্যাগ নিয়ে ঢুকবার দরকার নেই। প্রকাশক সোহানুর রহিম শাওন ভাই বলছে, যত কপি 'নিষিদ্ধ দ্বিপদী' ততকপি ব্যাগ ফ্রি। তাই বই কীভাবে নিবেন সেটার চিন্তা শাওন ভাইয়ের উপর ছেড়ে দিন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকেই 159 নাম্বার স্টলের যেকোন একজনকে জিজ্ঞেস করুন যে, "ভাই শুনেছি পরিবার প্রকাশনীতে রাজীব নন্দীর 'নিষিদ্ধ দ্বিপদী' পাওয়া যায়, সেটা কোন দিকে?" সে আপনাকে সুন্দরভাবে পথ দেখিয়ে দেবে।
অফারঃ
প্রতিদিন মেলায় প্রথম পাঁচজন নিষিদ্ধ দ্বিপদী ক্রেতা পাবেন এক পিস চিনি দিয়ে বানানো মিষ্টি। এটা শাওন ভাইয়ের পক্ষ থেকে। তাই বই কেনার সময় জিজ্ঞেস করবেন, আপনি কত নাম্বার। যদিও ওরা সবসময়ই ছয় থেকেই গোণা শুরু করে।
সতর্কবাণীঃ
'নিষিদ্ধ দ্বিপদী'কে নকল করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তাদের মানিব্যাগ ফুলাচ্ছে, সুইস ব্যাংকে টাকা জমাচ্ছে সেই সাথে গুলশানে ফ্ল্যাট কিনতেছে। তাই কেনার সময় কমেন্টে দেয়া বইয়ের কভার ও পরিবার প্রকাশনীর মনোগ্রাম দেখে আসল বই কিনুন।
ধন্যবাদ।
বই পড়ুন। আর লেখকের সমালোচনা করুন।
ভালোবাসা অফুরান।